মোহনপুরে রাস্তা নির্মাণে ধীরগতি চরম দুর্ভোগ, ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ৮ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
মোহনপুরে রাস্তা নির্মাণে ধীরগতি চরম দুর্ভোগ, ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ
রাজশাহী মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভায় রাস্তা নির্মাণ কাজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানর বিরুদ্ধে ধীরগতি অভিযোগ উঠেছে।রাস্তায় চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার হরিদাগাছী গ্রামের রাস্তায় তারা এ প্রতিবাদ জানান। রাস্তাটি নির্মাণে জন্য প্রায় ৭ মাস আগে কাজের উদ্বোধন করেন কেশরহাট পৌরসভা কতৃপক্ষ। কাজটি পেয়েছেন মেসার্স এম এ ইন্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে রাস্তাটি উলটো জনগণের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্বোধনের পর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৭ মাস। এলাকার মানুষের চলাচলে তাই দুর্ভোগের শেষ নেই। কোনো যানবাহন নিয়ে ঢোকার উপায় নেই, হেঁটে চলাচল করাও দায় হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেশরহাটব পৌরসভা কতৃপক্ষে অবহেলায় রাস্তা কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীর গতির কারণে এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভোগান্তি কমানো বা দ্রুত কাজ শেষ করতে কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। সরেজমিন দেখা গেছে, মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয় প্রকল্পের (IUGIP) ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে আওতায় এডিবি, এএফডি ও জিওবির অর্থায়নে গত ৮ ডিসেম্বর আব্দুর রহিমের বাড়ি হতে হরিদাগাছী বিল ভায়া হরিদাগাছী দরগাবাড়ি ইউনি ব্লক সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন পৌর কতৃপক্ষ। উদ্বোধনের পর থেকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজের কোন গতি নেই। চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা বলেন, রাস্তাটি দিয়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শস্য ও মাছ প্রতিনিয়তই এ রাস্তা দিয়ে আনা-নেওয়া করেন। গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটির কাজ শেষ না হওয়ায় গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তার মাঝে কাদাপানিতে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানান। হরিদসগাছী নামোপাড়া গ্রামের ইসরাফিল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, ফয়সাল হোসেন, মোজাহার আলী, রাশেদা খাতুন বলেন, প্রায় ১৫ বছরে কয়েকবার এ রাস্তায় মেপেছে কোন কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু কাদামাটিতে একাকার হয়ে পড়ে। এতে করে এলাকার অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা হাটে-বাজারে যেতে পারি না। দীর্ঘদিন পর রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু হলেও উদ্বোধনের প্রায় ৭ মাস পেরিয়ে কাজের কোন গতি নেই। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। এ বিষয়ে মেসার্স এম এ ইন্জিনিয়ারিং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা বলেন, এলাকার লোকজন আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। দ্রুত রাস্তার কাজটি শেষ করার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে