হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের অর্থ আবারও প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে আগামী শনিবার এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে দানের অর্থ গণনার উদ্যোগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১২টায় মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হবে। পুরো কার্যক্রম কমিটির সদস্য, প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে পরিচালিত হবে। এ আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি ও করণীয় চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ২২ জুন প্রায় সাত শতকের প্রচলিত রীতি পরিবর্তন করে প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেক এবং একটি দানবাক্স খোলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ অর্থ গোপনে গণনার প্রচলন থাকলেও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে প্রশাসন প্রকাশ্যে গণনার সিদ্ধান্ত নেয়। সেদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে পুরো অর্থ সোনালী ব্যাংকে জেলা প্রশাসনের নামে খোলা একটি নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের উদ্যোগ শুরু হয় গত ১২ জুন। ওই দিন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ১৮ জুন মাজারে চারটি নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং পুরোনো তিনটি দানের ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করে রাখা হয়, যাতে নির্ধারিত সময়ে সবার উপস্থিতিতে সেগুলো খোলা ও অর্থ গণনা করা যায়। এদিকে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ২৬ জুন ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটিতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মাজারের মতোয়াল্লি পরিবার এবং মসজিদ-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জেলা প্রশাসক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে মাজারের দান ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও প্রাতিষ্ঠানিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হবে। কমিটি জানায়, সগণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থ আগের মতোই সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।