ভরা বর্ষাতেও সৈয়দপুরের বাজারে মিলছে না দেশীয় মাছ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ৯ জুলাই, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
ভরা বর্ষাতেও সৈয়দপুরের বাজারে মিলছে না দেশীয় মাছ

বর্ষাকাল মানেই খাল-বিল, নদী-নালায় দেশীয় মাছের প্রাচুর্য। কিন্তু এবার ভরা বর্ষাতেও নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিভিন্ন মাছের বাজারে সেই চিরচেনা দৃশ্য নেই। বাজারে চাষের মাছের আধিপত্য থাকলেও শিং, মাগুর, টেংরা, পাবদা, কৈ, পুঁটি, টাকি, শোল, চেং চান্দা, গচি,গজার, বালিয়া, মৌকাসহ নানা ধরনের দেশীয় মাছের সরবরাহ একেবারেই কম। ফলে ক্রেতাদের যেমন হতাশ হতে হচ্ছে, তেমনি সীমিত সরবরাহের কারণে দেশীয় মাছের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাজারে দেশীয় নদী ও বিলের মাছের সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে বলে বিক্রেতারাও আশা প্রকাশ করেছেন।

সৈয়দপুর শহরের রেলওয়ে মাছ বাজার, রেলওয়ে গেট বাজার, আধুনিক পৌর মাছ বাজার, চৌমুহনী বাজারসহ আশপাশের মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানে রুই, কাতলা, পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ও অন্যান্য চাষের মাছ থাকলেও দেশীয় মাছের পরিমাণ খুবই সীমিত। যে অল্প কিছু দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তার দামও তুলনামূলক অনেক বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। মাছ বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টি হলেও প্রত্যাশিত হারে নদী-নালা ও জলাশয়ে দেশীয় মাছ ধরা পড়ছে না। অনেক বিল ও জলাশয় আগের মতো নেই, পাশাপাশি পরিবেশগত পরিবর্তন ও অতিরিক্ত আহরণের প্রভাবেও দেশীয় মাছের উৎপাদন কমেছে। ফলে বাজারে সরবরাহও কমে গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে দেশীয় মাছের স্বাদ নিতে বাজারে এলেও অধিকাংশ সময় খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে। যা পাওয়া যায়, তার দাম এত বেশি যে মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে নিয়মিত কেনা সম্ভব নয়। মৎস্য চাষীরা বলছেন, দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং খাল-বিল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাজারে সরবরাহ বাড়লে দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে বলে তারা মনে করছেন। সৈয়দপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানা যায়,উপজেলায় মাছের চাহিদা রয়েছে ৫ হাজার ২৫ মেট্রিক টন। এখানে উৎপাদন হয় ৪ হাজার ৭শ ১৩ মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় মাছের ঘাটতি ৩শ ১২ মেট্রিক টন।

এ উপজেলায় মৎস্য চাষীর সংখ্যা ২ হাজার ৮শ ১২ জন। এদের মধ্যে প্রশিক্ষিত চাষী ৯শ ৫ জন। মৎস্য চাষী সমিতির সংখ্যা ৬ টি, সরকারি হ্যাচারী রয়েছে ১ টি,সমাজভিত্তিক মাছ চাষীর সংখ্যা ২টি,সমাজভিত্তিক সংগঠন ২টি,মৎস্য অভয়াশ্রম ১টি, পোনা ব্যবসায়ির সংখ্যা ৭০ জন, পোনা উৎপাদন হয় ৬ হাজার ২শ ৬০ লক্ষ, বেসরকারি নার্সারীর সংখ্যা ১১ টি, রেনু উৎপাদন বছরে ২৪ কেজি।   মাছের ঘাটতি পুরণে কাজ করছে সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য দপ্তর।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে