পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাঁচ দিনের বিরামহীন ভারি বৃষ্টিতে খাল-বিল-ফসলী জমিসহ নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এখানকার পায়রা বন্দরসহ গোটা উপকূলের জীবনযাত্রায় বিপর্যস্ত অবস্থা নেমে এসেছে। কৃষিজমি থেকে বীজতলা, সবজির ক্ষেত সব পানিতে ডুবে আছে। শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। জনজীবনে ভোগান্তির শেষ নেই। ভারি বর্ষণ কবে নাগাদ শেষ হবে তা নিশ্চিত করে বুঝে উঠতে পারছেন না সাগরপাড়ের মানুষ। টানা বৃষ্টির ধকলে বর্ষাকালীন আগাম সবজির ক্ষেতে পচন ধরেছে। বৃষ্টির সঙ্গে বইছে থেমে থেমে মৃদু দমকা ঝড়োহাওয়া। সাগর ভয়াল উত্তাল রয়েছে। হাজারো মাছ ধরার ট্রলার মহিপুর-আলীপুরে নোঙর করে আছে। বসে বসে লোকসানের বোঝা গুনছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।
মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, ৫৮দিনের নিষেধাজ্ঞার পরেই সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা সবাই বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া তারা চরম সংকটে পড়েছেন। তারপরও চরম ঝুঁকি নিয়ে কেউ কেউ উত্তাল সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সাগরে দুটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ছয় জেলে। বিরামহীন ভারি বর্ষণে কলাপাড়ায় সবজির ভান্ডারখ্যাত নীলগঞ্জ ইউনিয়নের চাষীরা ক্ষতির শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কুমিরমারা, এলেমপুর, আমিরাবাদ, নেয়ামতপুর, নাওভাঙা গ্রামের সবজিচাষীরা জানিয়েছেন ক্ষেতের করলা, চিচিঙা, ঝিঙে, শসাগাছ নেতিয়ে গেছে। ফলনধরা গাছগুলো এখন বাচানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। এছাড়া আমন বীজতলা করতে পারছেন না কৃষকরা। খালবিল ফসলি জমিতে পানি থৈ থৈ করছে। স্লুইসগেট থেকে পানি নামতে পারছে না। এগুলো আমার কেউ কেউ মাছ ধরার জন্য জাল পেতে আটকে রাখছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তান্ডবে কুয়াকাটায় বেড়িবাঁধের মিরাবাড়ি পয়েন্টের রিভার সাইটের শত শত ব্লক দেবে গেছে। চরম ঝুকির শঙ্কায় আছেন সেখানকার মানুষ। এয়াড়া আন্ধারমানিক নদীর নিজামপুরসহ অন্তত পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে আছে। বাঁধ ভেঙে গোটা এলাকা ভেসে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। খেপুপাড়া রাডার স্টেশনের দেয়া তথ্যানুসাওে বৃহস্পতিবার সকাল ছয় টা পর্যন্ত গত ৭২ ঘন্টায় এখানে ২৭২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।