চাম্বল আতংকে উপকূলের মানুষ

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ১০ জুলাই, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
চাম্বল আতংকে উপকূলের মানুষ

পটুয়াখালী পৌর শহরের বিটাইপ সড়কে প্রবল বাতাস ও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে একটি বিশাল চাম্বল গাছ শিকড়সহ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটির ওপর। এতে প্রায় তিন হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। গাছটি পাশের সরকারি আবাসিক এলাকার একটি বাউন্ডারি ওয়ালেরও ক্ষতি করেছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে এ ঘটনায় কয়েক ঘণ্টা চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা। গাছটি বিদ্যুতের খুঁটির ওপর আছড়ে পড়ায় খুঁটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ৩৩ কেভি লাইন বিছিন্ন হয়ে যায় এবং জৈনকাঠী ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি বিটাইপ সড়কের ওপর গাছ পড়ে থাকায় উভয় দিকের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছটি কেটে অপসারণ করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পরে ওজোপাডিকোর প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্থ খুঁটি অপসারণ করে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জৈনকাঠী ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করেন। এতে কয়েক ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়।

ওজোপাডিকোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খান বলেন, চাম্বল গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় প্রায় তিন হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস গাছ অপসারণের পর বিকল্প পদ্ধতিতে জৈনকাঠী ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ খুঁটি ও লাইনের স্থায়ী মেরামতের কাজও চলছে।  পটুয়াখালী সদর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ রাজীব বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি অপসারণ করে। এতে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা নিরাপদে মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।

এদিকে, ঘটনাটি আবারও উপকূলীয় অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, অল্প বাতাস কিংবা মাঝারি ধরনের ঝড়েই চাম্বল গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে বা পুরো গাছ উপড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, সড়ক, বসতবাড়ি ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।

পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, উপকূলে ঝড়, দমকা হাওয়া কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বড় একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চাম্বল গাছ। বছরের পর বছর ধরে আমরা জনবসতির আশপাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ অপসারণ, নতুন করে চারা উৎপাদন ও রোপণ বন্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নাইমা আক্তার, মাসুদুর রহমান জানান, একটি গাছ উপড়ে পড়ে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ এবং সরকারি স্থাপনার ক্ষতি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা শহর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ দ্রুত চিহ্নিত করে অপসারণের পাশাপাশি বিকল্প নিরাপদ প্রজাতির গাছ রোপণের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে