হিজলা-মুলাদী সড়কে খানাখন্দ-জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে মানুষ

এফএনএস (মোঃ আরিফুল হক তারেক; মুলাদী, বরিশাল) : | প্রকাশ: ৯ জুলাই, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
হিজলা-মুলাদী সড়কে খানাখন্দ-জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে মানুষ

বরিশালের হিজলা-মুলাদী সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। মুলাদী পৌরসভার নয়াভাঙনী নদীর হিজলা মুলাদী সংযোগ সেতুর পূর্বপাড়ে সড়কে বড় বড় গর্তের হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এই খানাখন্দ পানিতে তলিয়ে কৃত্রিম ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। ফলে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জের কাজীরহাট অঞ্চলের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতার কারণে সেতুর পূর্বপাশের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি যেন ছোটখাটো একটি ডোবায় পরিণত হয়। কাদা আর নোংরা পানির ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন মালবাহী যানবাহন। অনেক সময় গর্তে চাকা আটকে গিয়ে যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। পানি জমে থাকার কারণে চালকরা গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। শুধু যানবাহনই নয়, পথচারীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে অত্যন্ত কষ্ট করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে স্থানীয় বন্দর এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মুলাদী বন্দর বণিক সমিতির সভাপতি এফ এম মাইনুল ইসলাম জানান, হিজলা-মুলাদী সড়কটি বরিশাল জেলা সদরের সঙ্গে হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, কাজীরহাট এলাকার যোগাযোগের একমাত্র পথ। এই সড়কে অনেক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হিজলা-মুলাদী সংযোগ সেতুর পূর্বপাশে প্রায় ৫০০ মিটার জায়গায় পিচ-খোয়া উঠে ডোবায় পরিণত হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা চরম জনদুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুর পূর্বপাড়েরর দুটি মসজিদের মুসুল্লী ও মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে তাদের মসজিদ মাদ্রাসায় যেতে হচ্ছে। সড়কটির দ্রুত সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের করা প্রয়োজন। বন্দরের ব্যবসায়ী জিয়াউল আহসান বলেন, একটি সড়কের জলাবদ্ধতায় মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোর শিকার হচ্ছেন। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে চলতি বর্ষা মৌসুম শেষে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে মুলাদী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার জানান, হিজলা-মুলাদী সংযোগ সেতুর পূর্বপাশের এই জলাবদ্ধতা ও খানাখন্দের কারণে জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। কর্মকর্তাদের নিয়ে সড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করতে এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে