জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যৌতুক দাবি করে গলা টিপে স্ত্রী হত্যা মামলার ১৩ বছর পর স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লক্ষটাকা অর্থদন্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী ইউনিয়নের লম্বাপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (২৮)।মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: ফজলুল হক জানায়,আনোয়ার হোসেন একই উপজেলার মাদারের চর মাস্টার পাড়ারবাসিন্দা আব্দুল রহিমের মেয়ে ইসমাতারা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরে স্বামী আনোয়ার ইসমাতারার কাছ থেকে সকল মূল্যবান গয়না খোলে নিয়ে এক লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছিলেন। ২০১২সালের ১১ ডিসেম্বর আনোয়ার তার স্ত্রী ইসমত আরার কাছে ১ লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করে না পেয়ে রাতে গলা টিপে হত্যা করে আনোয়ার তার প্রতিবেশী হুরমুজ আলীর বাড়ির উঠানে লাশটি ফেলে পালিয়ে যায়।
পর দিন নিহতের ভাই মো. মজনু মিয়া বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।এরপর বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, মেডিকেল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পরীক্ষা করার পর নিহতের স্বামী আনোয়ারকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন এবং আরো পাঁচ লক্ষটাকা জরিমানা করাহয়। এই জরিমানার টাকা ভিকটিম পাবেন এবং ভিকটিম এর অবর্তমানে তার লিগ্যাল ওয়ারিশগন প্রাপ্ত হবেন। এই রায় ঘোষনার সময় মামলার বাদী এবং আসামীর উনপস্থিত এই আদেশ দেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন, অ্যাডভোকেট মো: ফজলুল হক পি.পি. ও আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ ও মো: নাজমুল ইসলাম।