কুলিয়ারচরে ২ বছর পূর্বে গুম হওয়া যুবক জীবিত উদ্ধার

এফএনএস (মহিউদ্দিন লিটন; হাওর অঞ্চল, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
কুলিয়ারচরে ২ বছর পূর্বে গুম হওয়া যুবক জীবিত উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রায় ২ বছর আত্মগোপনে থাকার পর নিজের অপহরন হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে মাকে দিয়ে মামলা করার ঘটনা চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছেন পুলিশ। এ মামলায় প্রধান আসামী হিসেবে ৪ মাস জেল কেটেছেন এক টিকাদার। পুলিশ গাজিপুর থেকে উদ্ধার করে নিখোঁজ দেখানো যুবককে। উদ্ধার হওয়া ময়মনসিংহ শেরপুরের বাসিন্দা মোঃ মোস্তফা কামাল (২৮)। বর্তমানে তার পরিবার কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্ণীপুর এলাকায় নানার বাড়িতে বসবাস করছে। মামলার ভুক্তভোগী জামান মিয়া কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। থানা সূত্রে জানা গেছে মোস্তফা কামাল একজন রাজমিস্ত্রী এবং জামান মিয়া একজন টিকাদার। কাজের সূত্রে তাদের মধ্যে কয়েক লক্ষ টাকা লেনদেন ছিল। এক পর্যায়ে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। জানা যায় পাওনা টাকা আদায়ের জন্য জামান মিয়া এক সময় মোস্তফা কামালকে পিরিজপুর নিয়ে গিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দেন। পরক্ষনে মোস্তফা কামাল আত্মগোপনে চলে যান। অনেক দিন তার পরিবার খুঁজে না পাওয়ায় তার মা মনোয়ারা বেগম আদালতে হত্যা ও মরদেহ গুমের একটি পিটিশন মামলা করেন। পুলিশ আদালতের নির্দেশে জামান মিয়াকে গ্রেফতার করেন। চার মাস পর জামান মিয়া কারাভোগ শেষে মুক্তি পান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক জানান তদন্ত চলাকালীন সময়ে সন্দেহজনক মনে হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ই জুলাই গাজিপুর থানার ভেগের চালা একটি ভাড়ারত বাসা থেকে মোস্তফা কামালকে উদ্ধার করেন। তিনি আরও বলেন, মোস্তফা কামালের আত্মগোপনের বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা জানতেন বলে পুলিশ গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন। ভোক্তভোগী জামান মিয়া বলেন, কামালের সঙ্গে তার প্রায় ৪ লক্ষ টাকা লেনদেন ছিল। তিনি বলেন, বিনা দোষে ৪ মাস জেল খেটেছেন। তিনি তার বিচার চান। এ বিষয়ে মোস্তফা কামালের পরিবার কোনো কথা গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে বলতে রাজি নন। কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আত্মগোপনে থেকে নিখোঁজ ও গুমের অভিযোগ এসেছে। তাকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। কোনো ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তনাধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে