আষাঢ়ে টানা ভারী বর্ষনে বাগেরহাটের চিতলমারীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার নিচু এলাকার রাস্তাঘাট ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় বাসাবাড়ির আঙিনাতেও পানি ঢুকে পড়েছে।কাজে বের হতে পারছেন না শ্রমনির্ভর মানুষেরা। শ্রমনির্ভর কাজ বন্ধ থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
চিতলমারী ও আশেপাশের অঞ্চলের মৎস্য ঘেরের বাঁধগুলো অতিরিক্ত পানিতে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মৎস্য ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় চাষিরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তারা বাড়তি জাল বা বাঁশের পাটা দিয়ে ঘেরের ভেতরের পাড়ে সুরক্ষার চেষ্টা করছেন। আমন মৌসুমের চাষাবাদের জন্য বৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা থাকলেও অতিবৃষ্টির জলাবদ্ধতা ফসলের প্রাথমিক ভাবে ক্ষতি করতে পারে বলে জানিয়েছেন, উপজেলার আড়ুয়াবর্নী গ্রামের কৃষক মো: পান্না মুন্সী। এব্যপারে কৃষক অহিদুজ্জামান দারু বলেন, অবিরাম বৃষ্টির কারনে মাছের ঘের পাড়ে উৎপাদিত বিভিন্ন শাকসবজি গাছের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য ও কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ঘের ও ফসলের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন; উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা (কৃষিবিদ) সিফাত আল মারুফ ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদাউস আনসারী। সিফাত আল মারুফ জানান কয়েক দিনের টানা বর্ষনে উজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমির সবজি গাছ আক্রান্তসহ হেক্টর জমির বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার জানান, যদিও চিতলমারী অঞ্চলে তদ্রুপ বণ্যার ভয়াবহতার এখন পর্যন্ত আসংখ্যা নাই; তবুও সকল ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। স্ব,স্ব-দাপ্তরিক কর্মকর্তাগন মাঠে রয়েছেন। বিশেষ করে অবিরাম বৃষ্টি-পাতে রাস্তা-ঘাট নাজুক হয়ে গেছে। সে ব্যপারে উপজেলা প্রকৌশলী সর্বক্ষণিক তদারকি করছেন।