২২ বছর পরও বিএনপি নেতা মিন্টুকে ভোলেননি প্রধানমন্ত্রী

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
২২ বছর পরও বিএনপি নেতা মিন্টুকে ভোলেননি প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরিশালের গৌরনদী সফরে এসেছিলেন সোমবার (১৩ জুলাই)। ওইদিন সকাল দশটায় তিনি গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের বাটাজোর-সরিকল পূনঃখননকৃত খালের পাশে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধণ করেছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্বে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে করমর্দন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে করমর্দনের সময় নিজেদের পরিচয় প্রদান করতে দেখা যায় উপস্থিত নেতাদের।

তবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে করমর্দনের সময় গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু তার নিজের পরিচয় প্রদান করতে গেলে তাকে চিনে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তার (মিন্টু) কাঁধে হাত দিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও বরিশাল জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান মিন্টু বলেন, আমাদের বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন ভাইয়ের আমন্ত্রণে ১৩ জুলাই গৌরনদীতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ও ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ওইদিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর অনুষ্ঠানস্থলে আমিসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের পর আমাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে করমর্দনের সময় আমি আমার পরিচয় প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী আমাকে চিনে ফেলেন। পরে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তার এক হাত আমার কাঁধে রেখে কথা বলেন।

বদিউজ্জামান মিন্টু আরও বলেন, ২০০৩ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খনন করা গৌরনদী উপজেলার কুতুবপুর স্বনির্ভর খাল পূনঃখনন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীণ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উদ্বোধনের সময় গৌরনদী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক হিসেবে আমি তার পাশেই ছিলাম। দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান গৌরনদীতে এসেছেন। এই দীর্ঘ ২২ বছর পরেও যে তিনি (তারেক রহমান) আমাকে চিনতে পারবেন তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। দীর্ঘবছর পরেও যে তিনি আমাকে চিনতে পেরেছেন এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।

উল্লেখ্য, সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান বিএনপির কর্মী বান্ধব নেতা বদিউজ্জামান মিন্টু একটানা ৪০ পেরিয়ে ৪১ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখে রাজপথের সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে সর্বমহলে ব্যাপক পরিচিত। তার প্রধান শক্তি তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের ভালবাসা।

এ কারণেই বিগত পতিত সরকারের ১৭ বছরসহ রাজনৈতিক জীবনে তার (মিন্টু) বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। ওইসব মামলায় অসংখ্যবার কারাবরণ এবং হত্যার উদ্দেশ্যে সাতবার হামলার শিকার হয়েও বদিউজ্জামান মিন্টুকে রাজনৈতিক মাঠে দমিয়ে রাখা যায়নি।

বর্তমানে তিনি (বদিউজ্জামান মিন্টু) বরিশাল জেলার প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, পতিত সরকারের বিগত ১৭ বছরে হামলা-মামলা ও শত অত্যাচারের পরেও বদিউজ্জামান মিন্টু রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন।

রাজপথ থেকে হটিয়ে দিতে তৎকালীন সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে বদিউজ্জামান মিন্টুকে হেলমেট পড়িয়ে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। তারপরেও তিনি (মিন্টু) থেমে থাকেননি। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়েই আবার ফিরে গেছেন রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে।

সময়ের সাথে সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে একজন কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে বদিউজ্জামান মিন্টু ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। যেকারণে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কর্মী বান্ধব নেতা বদিউজ্জামান মিন্টুকে গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হিসেবে দেখতে চান দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের ভোটাররা।

জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বদিউজ্জামান মিন্টু রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তার বলিষ্ট নেতৃত্বের কারণে ১৯৮৭ সালে তিনি চাঁদশী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সরকারি গৌরনদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক, ১৯৯২ সালে ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি (মিন্টু) গৌরনদীতে ছাত্র রাজনীতির জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন।

১৯৯৫ সালে গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ২০০০ সালে ছাত্রদল বরিশাল জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। দলের প্রতি আনুগত্য ও আর নীতির প্রশ্নে আপোষহীন বদিউজ্জামান মিন্টুকে ২০০৩ সালে যুবদলের গৌরনদী উপজেলা শাখার আহবায়ক ও ২০০৫ সালে উপজেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে যুবদলের রাজনীতিতে বরিশাল জেলাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেন বদিউজ্জামান মিন্টু। যেকারণে ২০০৮ সালে তিনি বরিশাল জেলা উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০০৯ সালে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এবং একই বছর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওইবছরই (২০০৯ সালে) উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ছিলেন বদিউজ্জামান মিন্টু।

২০১০ সালে তিনি বরিশাল জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক, ২০১৫ সালে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক, ২০২২ সালে বরিশাল জেলা বিএনপির আহবায়ক সদস্য এবং ২০২৩ সাল থেকে তিনি (মিন্টু) উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, স্কুল জীবনে ছাত্রনেতা থেকে পর্যায়ক্রমে নিজের মেধা, দক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম ও জনসম্পৃক্ততা আর নিষ্ঠার মাধ্যমে বদিউজ্জামান মিন্টু উপজেলা ও জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সার্বিক বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে অদ্যবর্ধি বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে রাজপথে রয়েছি।

বদিউজ্জামান মিন্টু আরও বলেন, দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ চাচ্ছেন আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হিসেবে আমাকে প্রার্থী হতে। মানুষের অকুন্ঠ ভালবাসার প্রতিদান হিসেবে আমার রাজনৈতিক অভিভাবক স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন সহ দলের নীতি নির্ধারকদের কাছে জনগনের দাবি পৌঁছে দিবো।

বদিউজ্জামান মিন্টু বলেন-শতভাগ বিশ্বাস করছি, আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস বিবেচনা করে দলের নীতি নির্ধারকরা জনগনের ভালবাসার সঠিক মূল্যায়ন করবেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে