জুলাই আন্দোলন 'গণঅভ্যুত্থান' ছিল না, এটি ছিল একটি অসমাপ্ত আন্দোলন: জি এম কাদের

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
জুলাই আন্দোলন 'গণঅভ্যুত্থান' ছিল না, এটি ছিল একটি অসমাপ্ত আন্দোলন: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনকে শেষ হয়ে যাওয়া কোনো অধ্যায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান এখনও শেষ হয়নি। এটি একটি অসমাপ্ত আন্দোলন।" তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক সরকার, আইনের শাসন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার যে স্বপ্ন দেখেছিল, বাস্তবে তার পূর্ণ প্রতিফলন এখনও ঘটেনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে রংপুর নগরীর দর্শনা এলাকার পল্লী নিবাসে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পার্টি রংপুর মহানগর ও জেলা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, সাধারণ মানুষ এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মানুষের জানমাল রক্ষার নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জনগণের মধ্যে এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের জানমাল রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস ও সহিংসতা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জনগণ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, সেই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন তারা এখনও দেখতে পাচ্ছে না।

সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। শুধু ঋণনির্ভর অর্থনীতি দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে এই আন্দোলন আবারও নতুন রূপ নিতে পারে। জনগণের নেতৃত্ব জনগণের হাতেই থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

জি এম কাদের বলেন, বাংলাদেশ যেন শ্রীলঙ্কা বা নেপালের মতো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাই দায়িত্বশীল আচরণ এবং কার্যকর নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবকিছুর বিচার জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি। জনগণ যদি আমাকে গ্রহণ না করে, সেই সিদ্ধান্ত আমি মেনে নেব। তবে বিচার হতে হবে আইনের ভিত্তিতে এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে। প্রতিহিংসাপরায়ণ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

সভায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর সভাপতি মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও রংপুর মহানগরের সহসভাপতি জাহেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শমিম হায়দার পাটোয়ারী।

এছাড়াও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলার আহ্বায়ক আজমল হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর জেলার সদস্য সচিব হাজী আব্দুর রাজ্জাক, মিঠাপুকুর উপজেলার নেতা ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, নীলফামারী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি রশিদুর হক, দিনাজপুর জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী, রংপুর সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মাসুদ নবী মুন্না, কুড়িগ্রাম জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান, রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তারাগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক শাহীনুর রহমান মার্শাল, মিঠাপুকুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. আনিছুর রহমান আনিস, পীরগাছা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবু নাসের মো. মাহাবুব, পীরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক নুরে আলম যাদু, গঙ্গাচড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান এবং জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ আলী।

সভায় জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে