চারঘাটের বালুদিয়াড় কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

এফএনএস (মো: সজিব ইসলাম; চারঘাট, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
চারঘাটের বালুদিয়াড় কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বালুদিয়াড় টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ০৮ জুলাই কলেজের  শিক্ষকবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট এবং অফিস সহকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কলেজের রশিদ বই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী মো. মেরাজুল ইসলামের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গত ২৮ জুন ও ৭ জুলাই কলেজ প্রাঙ্গণে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, হুমকি-ধমকি ও অপ্রীতিকর ঘটনার ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।


শিক্ষকবৃন্দের অভিযোগ অনুযায়ী, অধ্যক্ষ নিজেই অফিস সহকারীকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করছেন। এছাড়া উপবৃত্তির অর্থ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরিবর্তে কিছু শিক্ষক-কর্মচারীর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে উপবৃত্তির অর্থ উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে।

অপরদিকে অফিস সহকারী মো. মেরাজুল ইসলাম তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ফরম পূরণ বাবদ সংগৃহীত প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫০ টাকার মধ্যে একটি অংশ কলেজের হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নবম ও দশম শ্রেণির বোর্ড বই বিক্রির ১৬ হাজার ৭০০ টাকা, কেন্দ্র থেকে ফেরত পাওয়া ২০ হাজার টাকা, ব্যবহারিক ফি বাবদ ১৫ হাজার টাকা এবং ২০২৬ সালের ফরম পূরণের অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ বিতরণে অনিয়ম করা হয়েছে। এ ঘটনায় অধ্যক্ষের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষ এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে একাধিকবার সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন এবং পুনর্বহালের সময় ভবিষ্যতে অনিয়ম ও অসদাচরণে জড়াবেন না বলে লিখিত অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু সেই অঙ্গীকার রক্ষা না করে পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রাহিদুল ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত স্বাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে