মেহেরপুরের গাংনীর এতিমখানা থেকে হাসাইন আলী (৯) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকালে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসাইন গাংনী উপজেলার আজান গ্রামের বিপ্লব হোসেনের ছেলে।সে গাংনী এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। হাসাইনের পিতা বিপ্লব হোসেন বলেন, হাসাইন ও তার ছোট ভাই হোসাইন গাংনী এতিমখানায় পড়াশোনা করতো। তার মা গত ছয় মাস পূর্বে আত্মহত্যা করে। এরপর হাসাইনকে এতিমখানায় রাখা হয়। আমার বড় মেয়ে কয়েকবার হাসাইনকে আনতে গিয়েছে শিক্ষকরা তাকে বাড়ি পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। শেষ পর্যন্ত আজ রোববার তাকে বাড়িতে পাঠানোর কথা ছিল কিন্তু হঠাৎ শুনতে পায় হাসাইন মারা গেছে। কিভাবে মারা গেছে তা তিনি জানেন না। তবে তার ছেলের একটু বুদ্ধি কম ছিল,কথাও কম বলতে পারতো।
এতিমখানার সহকারি শিক্ষক তাওহিদুল ইসলাম জানান, আজ সকালে সকল শিক্ষার্থী ফুলবাগানে কাজ করছিল। হাসাইন ঘরের মধ্যে বসে থাকা অবস্থায় নাক দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। এসময় তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক হাসাইনকে মৃত ঘোষনা করেন।
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, হাসাইন ও হোসাইন দুই ভাই গাংনী এতিমখানার শিক্ষার্থী। হাসাইনের বুদ্ধি কিছুটা কম,কথাও কম বলতে পারে। সে তার স্বয়ং কক্ষে শুয়ে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে গাংনী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গাংনী হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মাহবুর রহমান নাঈম বলেন, হাসাইনকে হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে প্রকৃত ঘটনা। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, গাংনী এতিমখানা থেকে এক শিশু মারা যাওয়ার বিষয়টি জেনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত করা হচ্ছে।