নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায় নেসকোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীবাসী’র ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম মিলুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বজলুজ্জামান মহন, চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফাইজুল ইসলাম ফাহি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন বিপ্লব, মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শরফুজ্জামান শামীম, মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি, সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন, মহানগর তাঁতি দলের সভাপতি কাজল, মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ তপনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষ। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজশাহী একটি বিভাগীয় শহর। এখান থেকে নেসকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে রাজশাহীর প্রশাসনিক গুরুত্ব কমে যাবে এবং অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে রাজশাহীবাসী কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে হরতালসহ আরও কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পরে নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) আফাজ উদ্দিনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগের খবরে রাজশাহীবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজশাহীর প্রশাসনিক গুরুত্ব কমার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই বহাল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে গত ১৬ জুলাই নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের বিষয়ে আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে মতামত দিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ মেজবাহ উল সাবেরিনের স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে স্থানান্তরের সম্ভাব্য আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব পর্যালোচনা করে মতামত প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।