ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের প্রকল্পের কাজ

৬ বছরে কাজ মাত্র দুই শতাংশ, ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
৬ বছরে কাজ মাত্র দুই শতাংশ, ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহন করে বুঝিয়ে দেওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলোর চরম গাফিলতি ও উদাসীনতায় ঝুলে পড়েছে নির্মাণ কাজ। একদিকে যেমন প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলোর চরম ব্যর্থতায় মহাসড়ক জুড়ে সৃষ্টি হওয়া খাদ ও খানাখন্দে জনভোগান্তি এখন চরমে পৌচেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরের ভূমি অধিগ্রহন শাখা কালীগঞ্জ এলাকার ৪৫ শতাংশ এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহন সম্পন্ন করে ইতিমধ্যে উইকেয়ার (ডবঈঅজঊ) প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। প্রশাসনিক সব সুযোগ-সুবিধা ও জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর রাস্তা নির্মান কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রকল্প কাজের গতি থমকে থাকার পেছনে আগে জমি অধিগ্রহনের কথা বলা হলেও এখন মূল দায়ভার গিয়ে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিঃ এবং লট-১ এর দায়িত্বে থাকা ম্যাক্স (গঅঢ) ফার্মের লোকাল প্রতিনিধির উপর। অভিযোগ রয়েছে, দ্রুত প্রশাসনিক সহযোগিতা  থাকার পর ও দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পরিচালনায় চরম গড়িমশি ও টালবাহানা করছে।তথ্য নিয়ে জানা গেছে, জমি অধিগ্রহনের সঙ্গে সরকারের ৬টি বিভাগ জড়িত ছিল। ৬ বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে মুলত তারা জরিপ ও পরিদর্শন রিপোর্ট তৈরীতে দেরি করেছে। ফলে জমি অধিগ্রহনে ধীর গতি পরিলক্ষিত হয়। বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে পুরোদমে জমির মালিকদের প্রাপ্য টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ জানান, সামনে ২১ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহনের কাজ ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। এ কাজে আমাদের কোন গাফলতি নেই, বরং দ্রুততার সঙ্গে অধিগ্রহনের কাজ চলছে। প্রকল্পটি যাতে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সহায়ক হয় সে ভাবেই আমরা অধিগ্রহনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।  

কাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে লট-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী বলেন, আগে জমি অধিগ্রহনে ধীরগতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজ শুরু করতে পারেনি। মার্চ ও জুলাই মাসে আমারা বেশ কিছু জমি বুঝে পেয়েছি, তাই এখন কাজও দ্রুত গতিতে বাড়বে। তিনি তাদের কাজ ১০ শতাংশের মতো এগিয়েছে দাবী করে জানান, আগামী এক সপ্তাহ পর থেকে সড়কের কাজ দৃশ্যমান শুরু হবে এমনটা আশা করছি।

কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গেলে লট-২ ও ৩ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কোনোভাবেই কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমি পাওয়ার পরও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ২ শতাংশ কাজ হয়েছে। কাজের গতি বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো তোয়াক্কা করছে না।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে ৪ হাজার ১৮৭ কোটি টাকায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়। কাজের অগ্রগতি না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডাইরেক্টর জোঁ পেম ও অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন। গত ১৯ জুলাই ঝিনাইদহ সফর করে সরজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। ঝিনাইদহ সফরকালে তারা জানান, আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ প্রকল্পের মেয়দ শেষ হচ্ছে। এটা বর্ধিত হবে কিনা তা বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে