স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ৩ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় ইসি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে এখনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিতে কোনো ধীরগতি নেই বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর কিংবা ডিসেম্বরের কথা শোনা গেলেও এখনো কোনো সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ইসি সচিব।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ রেখেছিল কমিশন। তবে এখনো নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় ওই সময়সীমা পরিবর্তন হতে পারে, আবার নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সময়সীমা পরিবর্তনের বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তিন ধাপ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ইসি সচিব বলেন, কমিশনের প্রস্তুতির মূলত তিনটি দিক রয়েছে। এর একটি আইন ও বিধিমালা, দ্বিতীয়টি নির্বাচনী সরঞ্জাম এবং তৃতীয়টি প্রশিক্ষণ।

ইতোমধ্যে আচরণবিধি প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম কমিশনের হাতে রয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রও রয়েছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য টিওটি বা ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স পদ্ধতিতে মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে এবং এতে কোনো ধীরগতি নেই।

নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তিনি জানান, তফসিল ঘোষণার পর সাধারণত ভোটের তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ দিনের ব্যবধান থাকে। এর পাশাপাশি ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা ও মুদ্রণের জন্য প্রায় দেড় মাস সময় প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে একটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় তিন মাসের প্রস্তুতি সময় ধরে এগোতে হয়।

অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, বিভিন্ন সময়ে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর কিংবা ডিসেম্বরের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় এখনই কিছু বলা তার জন্য ঠিক হবে না।

আইন সংশোধনে নতুন প্রস্তাব
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের জন্য কিছু প্রস্তাব তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করা, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইনের মালিকানা স্থানীয় সরকার বিভাগের। দেশের বাইরে থাকা দুই নির্বাচন কমিশনার দেশে ফেরার পর এসব সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানান ইসি সচিব।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নতুন করে সংলাপের বিষয়েও আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইসি সচিব বলেন, বিভিন্ন বিধিমালা নিয়ে এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়েছে। বাড়তি কোনো সংলাপের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেই।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও এখনো দিনক্ষণ ঠিক হয়নি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও এখনো কোনো সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা পাঠানোর জন্য সংসদ সচিবালয়কে অনুরোধ করেছে নির্বাচন কমিশন। ওই তালিকা পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে কাজ শুরু হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইসিতে পাঠানোর জন্য একটি ফাইল গত সপ্তাহের শেষ দিকে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সেটিতে অনুমোদন হয়নি। অনুমোদনের পর সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নির্বাচনে শুধু সংসদ সদস্যরা ভোট দেন।

৩৮ দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন ইসি সচিব। তিনি জানান, দেশে ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে একটি দলের নিবন্ধন স্থগিত। বাকি ৫৮টি দলের মধ্যে ৩৮টি দল বিগত পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব বা অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

আরও ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। বাকি আটটি দল কোনো সাড়া দেয়নি। আইন অনুযায়ী, সাড়া না দেওয়া দলগুলোকে নোটিশ দেওয়া হবে।

আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা। তবে ৩১ জুলাই শুক্রবার হওয়ায় এবার ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।

এনআইডি সংশোধন নিয়েও কাজ চলছে
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সংশোধন নিয়েও একটি কমিটি কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব। তবে ওই কমিটির সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি বিস্তৃত কাঠামোয় আলোচনা হয়েছে। তবে কোন কোন বিষয় যাচাই করা হবে এবং কীভাবে কাজটি পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি তৈরি হয়নি। এ বিষয়ে সামগ্রিকভাবে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলেও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি থেমে নেই। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচির ওপর পরবর্তী প্রস্তুতির গতি ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে