নাগেশ্বরীতে চাল বরাদ্দ থাকলেও ত্রাণ পায়নি বানভাসীরা

এফএনএস (হাফিজুর রহমান হৃদয়; নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
নাগেশ্বরীতে চাল বরাদ্দ থাকলেও ত্রাণ পায়নি বানভাসীরা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ থাকলেও তা পায়নি বন্যর্তরা। বানভাসীদের জন্য বরাদ্দ চাল বন্দি রয়েছে গুদামে। বন্যা কবলিত নয় এমন দুটি ইউনিয়ন পরিষদের নামে উত্তোলন করে গুদামজাত করে রাখা হয়েছে এসব চাল। মাত্র ৩০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করেই বন্যা পার করেছেন ইএনও। অপরদিকে ফেরত গেছে জুন মাসের টিসিবি গ্রাহকদের বরাদ্দ চাল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অবহেলায় ও খামখেয়ালীতে এমন অবস্থা অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

জানা গেছে, চলতি বছর জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসে দুই দফা বন্যার কবলে পড়ে উপজেলার ৫টি ইনিয়নের ২০টি ওয়ার্ডের মানুষ। উপজেলা ত্রান শাখার হিসেব অনুয়ায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় ২হাজার ৬৪০ জন মানুষ। একই সময় নদী ভাঙনের শিকার হয় আরোও শতাধিক মানুষ। এসব বন্যা ও নদী ভাঙন কবলিতসহ ৩ হাজার মানুষের বিপরীতে ৩০ মেট্রিকটন জিআর এর চাল ও ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয় জেলা প্রশাসন। ২৯ জুন বরাদ্দ দেয়া এসব চাল ও শুকনো খাবার ৩০ জুন উত্তলন করা হয়। বরাদ্দের চাল তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিতরণ শেষ করার কথা থাকলেও মাত্র ৩০ প্যাকেট শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেছেন ইউএনও। বন্যা কবলিত মানুষেরা ৩০ মেট্রিকটন চালের কিছুই না পেলেও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বন্যা কবলিত নয় এমন দুটি ইউনিয়ন সন্তোষপুর ও রামখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকের নামে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বন্যা কবলিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানরা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অবহেলায় ও খামখেয়ালীপনায় এবার বন্যার্তারা ত্রাণের চাল পায়নি। উত্তোলনকৃত চাল কোথায় এবং কিভাবে আছে আমরা জানিনা। বন্যাকবলিত রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, বন্যায় আমার ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ফান্দের চর অন্যতম। ওই সময় বারবার যোগাযোগ করেও বন্যার্তদের জন্য কিছু পাইনি। শুনেছি চাল বরাদ্দ হয়েছে। তবে আমরা পাইনি। কেদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যা আ.খ.ম ওয়াজিদুল কবীর রাশেদ জানান, বন্যার্তদের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ থাকলেও আমরা তা পাইনি। তবে ইউএনও অন্য দুজন চেয়ারম্যানের নামে চাল উত্তোলন করে রেখেছেন শুনেছি। উত্তোলনের ১ মাস পেরিয়ে গেলেও এসব চাল বিতরণ হয়নি।

বরাদ্দ পাওয়া রামখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, আমার ইউনিয়ন কখনো বন্যা কবলিত হয় না। ইউএনও’র নির্দেশে বন্যাকবলিতদের বরাদ্দের চাল আমার নামে ১৫ মেট্রিকটন ও সন্তোষপুর ইউনিয়নের প্রশাসকের নামে ১৫ মেট্রিকটন উত্তোলন করে গুদামেই রাখা হয়েছে। চাহিবামাত্র সমুদয় চাল আমরা ফেরত দিবো। 

এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অবহেলায় জুন মাসে উপজেলার ৪১হাজার ১০২জন টিসিবি গ্রাহকের ২লাখ ৫হাজার ৫১০কেজি চাল ফেরত গেছে। অভিযোগ রয়েছে সময়মতো ছাড়পত্রে সই করেননি তিনি। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম খোদাদাদ হোসেন জানান, বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের আগেই বন্যা শেষ হয়ে যায়। চাল ফেরত দেয়ার কথা ছিলো তবে তুলে গুদামেই রাখা হয়েছে পরবর্তিতে বন্যা হলে বিতরণ করা হবে। আর বিশেষ কারণে আমার অনুপোস্থিতিতে টিসিবি চাল উত্তোলনের সময় পার হয়ে যায়। গ্রাহকদের অন্যান্য পণ্য দেয়া হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে