বাগেরহাটে ঘনঘন লোডশেডিং দূরীকরণ, গ্যাস সংকট নিরসন, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার, বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জোটের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। পরে জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গ্যাস সংকট, তীব্র লোডশেডিং, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট জেলা সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। একদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে লোডশেডিং বন্ধ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মুফতি রমিজ উদ্দিন, বাগেরহাট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার সোহেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট জেলা সহকারী সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুস্তাইন বিল্লাহসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পাঁচ দফা দাবিগুলো হচ্ছে, গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসন করে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাণিজ্যিক ও আবাসিক খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। সারাদেশে ভয়াবহ লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।বিদ্যুতের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সহনীয় মূল্য নির্ধারণ করা। ভুতুড়ে ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে প্রকৃত মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল প্রদান নিশ্চিত করা। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বাজার তদারকি জোরদার এবং সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।