আশাশুনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ভবন নির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আপাততঃ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ভবন নির্মান কাজ শুরুর পর থেকে অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। কাজ শুরু থেকে অদ্যাবধি উল্লেখযোগ্য তদারকী ছাড়াই কাজ চলে আসছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে নির্মান কাজ উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের মধ্যেই চলছে। কিন্তু তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলী, এমনকি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নজরে না এনে এবং কোন প্রকার দেখভাল ছাড়াই কাজ চলে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছিল। আগে থেকে ইউএনও, ইঞ্জিনিয়ার বা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডুকে জানানো হয়। তিনি পূর্ব নির্ধারিত জরুরী কাজে বাইরে যাচ্ছেন, তার পক্ষে সময় দেয়া সম্ভব না হওয়ায় তিনি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষা অফিসারকে নিয়ে ত্রুটিমুক্ত কাজ করার পরামর্শ দেন। সাথে সাথে একাডেমীক সুপার ভাইজারকে মোবাইলে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একাডেমীক সুপার ভাইজার হাসানুজ্জামান ইঞ্জিনিয়ার অফিসের সাথে কথা বলে কাজে ব্যবহৃত স্টোন নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি সুরহা না করে কাজ করতে নিষেধ করেন। এরপরও কাজের দায়িত্বে থাকা ঐঙইঅঞ এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম ও সাইড ইঞ্জিনিয়ার শরীফ পারভেজ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতামতকে তুয়াক্কা না করে কাজ শুরু করেন। দুপুরের পর ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডু কর্মস্থলে ফিরে কাজে অনিয়মের কথা জানতে পেরে তাদেরকে অফিসে তলব করেন। একই সময় উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অনিন্দ্যদেব, একাডেমীক সুপার ভাইজার হাসানুজ্জামান, উপ সহকারী প্রকৌশলীবৃন্দ এবং প্রেস ক্লাবের সভাপতি এসকে হাসান, সাধারণ সম্পাদক আকাশ হোসেন ও অন্য সাংবাদিকদের তাঁর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।
উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব কাজে ব্যবহৃত স্টোন সঠিক হয়নি বলে মতামত দেন। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে একটি পাইল রিজেক্ট করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সেই রিজেক্ট পাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া রডের ব্যবহারসহ অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম হতে পারে বলে উপস্থিত প্রকৌশলীবৃন্দ জানান। একাডেমীক সুপার ভাইজার হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা সকালে কাজ না করতে বলে গেছি, কিন্তু তারপরও আমাদের অজান্তে কাজ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ব্যবহৃত স্টোনের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো ইঞ্জিনিয়ার অফিস টেস্টে পাঠাচ্ছে, রিপোর্ট আসলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। সে সময় পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।