উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে বিদ্যুৎ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানার মালিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল ও সময়। বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, কমছে আয়। ফলে অনেক কারখানা মালিকের মাথায় হাত পড়েছে।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে কখন ফিরবে তারও কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে। সৈয়দপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে অসংখ্য ওয়ার্কশপ, ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা, মেরামত প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই বিদ্যুৎনির্ভর। ফলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন ও ব্যবসায়।
কারখানা মালিকরা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে মেশিন বন্ধ রাখতে হয়। এতে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হলেও মজুরি দিতে হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ আসার পর মেশিন চালু করতে অতিরিক্ত সময় লাগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়ে কাঁচামালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। একজন কারখানা মালিক বলেন,বিদ্যুৎ না থাকলে কারখানা চালানো সম্ভব নয়। ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে গেলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়। এভাবে দীর্ঘদিন ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়মের কারণে দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনলাইন লেনদেন, কম্পিউটারভিত্তিক কাজ, ফটোকপি, প্রিন্টিংসহ বিদ্যুৎনির্ভর নানা সেবা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে একদিকে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে সেবাগ্রহীতারাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। শুধু শিল্প ও ব্যবসা নয়, বাসাবাড়ির গ্রাহকরাও রয়েছেন চরম দুর্ভোগে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পানির পাম্প চালানো, মোবাইল ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চার্জ দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। রাতের বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, সৈয়দপুরের শিল্প ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো ও দুর্বল লাইন, ট্রান্সফরমার ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। গ্রাহকদের প্রশ্ন-শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত সৈয়দপুরে যদি দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে শিল্প ও ব্যবসার প্রসার ঘটবে কীভাবে? এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন সৈয়দপুরের সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা। বিদ্যুতের ভেলকী বাজি খেলা নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র নেসকোর এক কর্মকর্তার সাথে। তিনি বলেন,সমস্যার সমাধান হতে সময় লাগবে।