‘অকার্যকর’ ঘোষণার পর ৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ১০ আগস্ট, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
‘অকার্যকর’ ঘোষণার পর ৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন স্থগিত
ছবি: সংগ্রহীত

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান তিনটিকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করার পর সোমবার (১০ আগস্ট) থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তাদের শেয়ার লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে।

ডিএসই জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠান তিনটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। ফলে আপাতত এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনাবেচা বা হস্তান্তর করা যাবে না।

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম, জালিয়াতির অভিযোগ এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সময়ে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়।

প্রশাসক হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে প্রশাসক করা হয়েছে আবু সামা মো. আতাউর রহমানকে। আর ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সাদেকুর রহমান।

প্রশাসক নিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা, সম্পদ, দায়-দেনা এবং আমানতকারীদের পাওনাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠান তিনটিকে অকার্যকর ঘোষণার পর শেয়ার লেনদেনও বন্ধ করে দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের মোট আমানত প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত ৬৪৬ কোটি টাকা। অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা।

ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের মোট আমানত ৩৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ ১০৫ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা এবং আমানত ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল।

অন্যদিকে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের মোট আমানত ৪৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত ৩৬ কোটি টাকা। অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দায় বা ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৪৭ কোটি টাকা।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার সর্বশেষ রোববার (৯ আগস্ট) ২ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে।

অকার্যকর ঘোষণার পর শেয়ার লেনদেন স্থগিতকে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ, দায়, আমানতকারীদের পাওনা ও অন্যান্য আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

তিন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডাররা আপাতত তাদের হাতে থাকা শেয়ার বাজারে বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই অবস্থাই বহাল থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে