৮৬ হাজার ৭০৯ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আসছে সরকারি সম্মানী ভাতার আওতায়

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ১০ আগস্ট, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
৮৬ হাজার ৭০৯ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আসছে সরকারি সম্মানী ভাতার আওতায়
ছবি: সংগ্রহীত

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা এই সুবিধা পাবেন। আগামী আগস্ট মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে গঠিত সেলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় এই সুবিধার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০১টি গির্জা। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা সম্মানী ভাতা পাবেন।

সেলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সেলের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে নির্বাচন হবে
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের সম্মানী ভাতার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভাগুলোর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দুটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করা হবে ছয়টি করে মসজিদ।

মন্দিরের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট হারে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি মন্দির নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি থেকে দুটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভা থেকে একটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। বাকি মন্দিরগুলো ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নির্বাচন করা হবে।

অন্যদিকে বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে।

কে কত টাকা পাবেন
নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজক মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন।

মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার সহকারী যাজকের মাসিক সম্মানী হবে তিন হাজার টাকা। আর মসজিদের খাদেম পাবেন মাসে দুই হাজার টাকা।

এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো হবে।

বাজেটে ১১০০ কোটি টাকা
মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার জন্য চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এই অর্থবছরে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয় রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসবে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুরু হয়েছিল পাইলট প্রকল্পে
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়া শুরু হয়।

ওই প্রকল্পে দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইতসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে সম্মানী দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের এক মাস না পেরোতেই ১৪ মার্চ ২০২৬, শনিবার, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

পাইলট প্রকল্পের পর এবার সুবিধার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে