রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।
সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেবেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে। ওই দিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
জামায়াত জোটের প্রার্থী ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি শুরু করেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) এ নিয়ে অনির্ধারিত বৈঠক করে কমিশন। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত যদি দুজন প্রার্থী থাকেন, তাহলে ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ কয়েকটি দলের সংসদ সদস্যরা ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন।
এরপর অনুষ্ঠিত সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি হবে বলে ধারণা করা হলেও বিরোধী জোটের প্রার্থী ঘোষণায় নির্বাচনের সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে মঙ্গলবারের স্পিকার-সিইসি বৈঠক তাই ভোটের প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।