গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি গরুর মৃতদেহের ভিডিওকে ‘ছাত্রলীগকর্মীর বাবাকে হত্যা করে জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়েছে’—এমন মিথ্যা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) থেকে আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হয়, ‘ছেলে ছাত্রলীগ করার কারণে বাবাকে মেরে কাপাসিয়ার জঙ্গলে রেখে গেছে বিএনপি ও জামায়াতের সন্ত্রাসীরা।’
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে ভিডিওটির বাস্তব ঘটনার কোনো মিল নেই। ভিডিওটি মূলত গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব এলাকায় একটি গরুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধারণ করা হয়েছিল।
রিভার্স ইমেজ সার্চ ও প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে ‘Kapasia Update by Lokman’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই ভিডিওর একটি সংস্করণ পাওয়া যায়। সেখানে ভিডিওটির ক্যাপশনে ‘কাপাসিয়া বারিষাব’ লেখা ছিল।
ভিডিওতে তিনজন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন ব্যক্তিকে একটি মৃত গরুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একই অ্যাকাউন্টে গরুটির মৃত্যুর বিষয়ে একাধিক ছবি ও ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। সেসব পোস্টে একই পুলিশ সদস্যদের দেখা যায় এবং গরুটির লেজ গাছের সঙ্গে পেঁচানো অবস্থায় থাকার বিষয়টিও দেখা যায়।
এ ছাড়া ‘Md Tajuddin 2’ নামে একটি অ্যাকাউন্টে গত ৮ আগস্ট প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে বলা হয়, কাপাসিয়া থানা পুলিশ ভেরার চালা শেখবাড়ির মো. রফিকুল ইসলামের গরুর মত্যুর ঘটনায় তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যায়।
অন্য একটি পোস্টে গরুটির ছবি দিয়ে উল্লেখ করা হয়, বাড়ির পাশে গরু রেখে দেওয়া হয়েছিল। পরে গরু আনতে গিয়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পোস্টে ঘটনাস্থল হিসেবে কাপাসিয়ার বারিষাব ইউনিয়নের ভেরার চালা শেখবাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়।
ভিডিওটির আপলোডকারী লোকমান রিউমর স্ক্যানারকে জানান, ভিডিওটি কোনো মানুষের মৃত্যুর ঘটনার নয়। এটি একটি গরুর মৃত্যুর ঘটনাসংশ্লিষ্ট ভিডিও। গরুটির সন্দেহজনক মৃত্যুর পর মালিক পুলিশে অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। সে সময়ই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটির সঙ্গে ‘ছাত্রলীগকর্মীর বাবাকে হত্যা’ এবং বিএনপি-জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার যে দাবি ছড়ানো হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন। ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।