স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট দেবেন ৩৪৯ এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদন
| আপডেট: ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম | প্রকাশ: ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট দেবেন ৩৪৯ এমপি
ছবি: সংগ্রহীত

আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটের জন্য তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সরবরাহ করবে। ভোটগ্রহণ শেষে সেখানেই ব্যালট গণনা করে প্রাথমিক ফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে কমিশনের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এর আগে তিনি জাতীয় সংসদে স্পিকার, চিফ হুইপ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করেন।

ইসি সচিব জানান, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ চলবে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ নির্ধারিত আসনে বসে ভোট দেবেন। নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তারা তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন।

ভোটের জন্য মোট ৩৪৯টি ব্যালট প্রস্তুত থাকবে। কোনো সংসদ সদস্য অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে উপস্থিত হলেও যাতে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, সে জন্য বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চালু রাখা হবে।

ব্যালট পেপারে ভোটদাতার ক্রমিক নম্বর, নাম, বিভক্তি বা ডিভিশন নম্বর এবং স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত অংশ থাকবে। অন্য পাশে থাকবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।

ভোট দেওয়া শেষে সংসদ সদস্যরা তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের যেকোনো একটিতে ব্যালট পেপার জমা দিতে পারবেন।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। গণনা শেষে কতটি ব্যালট বৈধ হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন, তা নির্ধারণ করা হবে।

এরপর প্রাথমিক ফল সংসদ ভবনেই ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তা বা সিইসি এই ফল ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংসদে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে। সংসদ সচিবালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহায়ক কর্মকর্তা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনাররা চাইলে ভোটগ্রহণের সময় সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন।

দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। সংবাদকর্মীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসার ব্যবস্থার বিষয়েও প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহারের ধাপ রয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৮ আগস্ট। একই দিনে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শেষ হবে। এরপর ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ হবে।

১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং বিরোধী দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। বিরোধী পক্ষ থেকে এলডিপির অলি আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পর দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। বিরোধী পক্ষ থেকেও একজন প্রার্থী দেওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো সংসদ সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিপক্ষ প্রার্থীকে ভোট দিলে সেটি ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বিষয়টি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জানতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি এখন চলছে। ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের পর সংসদ কক্ষেই গণনা ও প্রাথমিক ফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে ভোটের মূল কার্যক্রম। পরে নির্বাচন কমিশন থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে