রাউতাড়ায় পৈত্রিক জমি জবর দখলের অভিযোগে আদালতে মামলা

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
রাউতাড়ায় পৈত্রিক জমি জবর দখলের অভিযোগে আদালতে মামলা

আশাশুনি উপজেলার রাউতাড়া মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ভোগদখলীয় জমির মৎস্য ঘের জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের হুমকী ধামকীতে বাদী পক্ষ গৃহের বাইরে যেতে সাহস পাচ্ছেনা। থানায় সাধারণ ডায়েরী করলেও আসামীদের দৌরাত্ব থামছেনা, বরং হুমকী ধামকী বৃদ্ধি ও ঘেরের মাছ ধরে লিটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

রাউতাড়া গ্রামের তেজেন্দ্র পাড়ুইয়ের ছেলে কালিদাশ ও অন্যরা জানান, তাদের পূর্ব পুরুষ মোহন পাড়ুইয়ের ছেলে গিরিশ পাড়ুই ৫.৮৫ একর রেকর্ডীয় জমির মালিক ছিলেন। তার ৪ পুত্র শম্ভুনাথ, অনন্ত, মনীন্দ্র ও তেজেন্দ্র। শম্ভুর ৩ পুত্র নগেন্দ্র, খগেন্দ্র ও কালিপদ। অনন্তর ১ পুত্র খগেন্দ্র কোন ওয়ারেশ না রেখেই মারা যান। মনীন্দ্রর ১ পুত্র পরিতোষ, তেজেন্দ্রর ৩ পুত্র কনেক, সন্তোষ ও কালিপদ। গিরিশের ৫.৮৫ একর জমি ৪ পুত্র ১.৪৬ একর করে প্রাপ্ত হয়। শম্ভু ও অনন্ত আপন দু'ভাইয়ের দুই পুত্রের নাম খগেন্দ্র অবিশ্বাস্যজনক হওয়ায় ও আইডি কার্ড দেখে প্রমান হয় দুই খগেন একই ব্যক্তি। তাছাড়া শম্ভু জীবিত কালে তার সকল সম্পত্তি (পাওনার চেয়ে বেশী) বিমল, ভদিদাশী ও টিপু মোল্যার কাছে বিক্রয় করেন। এছাড়া অনন্তর পুত্র সন্যাসী ওরফে খগেনের মৃত্যুান্তে ওয়ারেশ না থাকায় তার অংশ তেজেন্দ্র, মনীন্দ্র ও শম্ভুর ওয়ারেশরা সমানাংশে প্রাপ্ত হন। তারপরও খগেনের ৫ পুত্র গোবিন্দ, মহেন্দ্র, তবেহীন্দ্র, রঞ্জন ও সুশান্ত যোগসাজস করে তেজেন্দ্র ও মনীন্দ্রর অংশ জবর দখলের ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন তারা সন্ত্রাসী স্টাইলে ১.৪৬ একর জমিসহ অন্য দাগে আরও ২০ শতক জমির মৎস্য ঘের জবর দখল করে নেয়। এব্যাপারে বিজ্ঞ জুডিঃ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ০৮ (আশাশুনি) সাতক্ষীরা আদালতে সিআর ২৮৬/২৬ (আশাঃ) রুজু করা হয়। মামলার পর থেকে তারা আরও ক্ষিপ্ত ও সংঘবদ্ধ হয়ে ঘের থেকে অনুমান ৫০ হাজার টাকার মাছ ধরে নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। সাথে সাথে আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ভয়ভীতি ও জীবন নাশের হুমকী দিয়ে চলেছে। আমরা বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হতে পারছিনা। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাধ্য হয়ে আশাশুনি থানায় গত ৭ আগস্ট ৩২৩ নং সাধারণ ডায়েরী করেছি। মাছ ধরে সংসার নির্বাহে নির্ভরশীল পর্ািরের সদস্যরা রীতিমত অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা স্বাভাবিক জীবন যাপনের নিশ্চয়তা পেতে চায়। তারা প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, জন প্রতিনিধি, আইন আদালতসহ সকলের সহযোগিতা কামনা কনেছেন।