রাজধানীর তিন এলাকায় অটোরিকশাচালকসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদন
| আপডেট: ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম | প্রকাশ: ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
রাজধানীর তিন এলাকায় অটোরিকশাচালকসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, বাড্ডা ও মুগদায় পৃথক ঘটনায় তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে নিজ নিজ বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তিনজনেরই আত্মহত্যার ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মৃত তিনজন হলেন কামরাঙ্গীরচরের নয়ন (৩০), বাড্ডার রবিউস সানি (৩২) এবং মুগদার সবুজ ওরফে বাবু (২০)। তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের হাসান নগর সিকদার স্কুলের সামনের একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলার কক্ষ থেকে নয়নের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াদ মাহমুদ নাহিদ এ তথ্য জানান।

নয়ন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মোসলেম মিয়া ও স্বপ্না বেগমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। হাসান নগর এলাকায় বোনের বাসায় থাকতেন। পুলিশের ভাষ্য, সংসারে অভাব-অনটন ও পারিবারিক কলহ নিয়ে তিনি হতাশায় ছিলেন। স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে তার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, বাড্ডার জামতলা স্বাধীনতা সরণির একটি সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাট থেকে রবিউস সানির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড্ডা থানার এসআই জয়ন্ত দত্ত জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়।

রবিউস সানি কুমিল্লার কান্দিরপাড় আদর্শ নগর এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং উত্তর বাড্ডার জামতলা এলাকায় থাকতেন। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অফিসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গেও মনোমালিন্য চলছিল।

পুলিশ জানায়, সকালে রবিউস সানির স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে তাকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নামিয়ে আনেন। তখন তিনি মারা গিয়েছিলেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

এদিকে মুগদার পাগল চাঁন হোটেল সংলগ্ন শফিক শেখের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে সবুজ বাবুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মুগদা থানার এসআই মো. আবু তারেক দীপু জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সবুজ বাবু ফ্যানের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলেন। তিনি জামালপুরের মাদারগঞ্জ থানার দক্ষিণ গুণগ্রাম গ্রামের মো. বদু শেখ সুজনের ছেলে। মুগদার ওই বাসায় মা, বাবা, স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে থাকতেন। তিনি ইট ভাঙার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

স্বজন ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সবুজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকা নিয়ে কয়েক দিন আগে বাবার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। নেশার টাকা না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

তিনটি ঘটনাতেই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে