ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার জন্য ৩২০ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব কিনবে সরকার। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড, সোনাকান্দা, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ থেকে এসব ট্যাব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইমপ্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং’ প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের জন্য এসব ট্যাব কেনা হবে। ক্রয়ের জন্য সুপারিশ করা দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্যাব কেনায় মোট ব্যয় হবে ৩২০ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৩২১ কোটি টাকা।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত উপকারভোগীদের শনাক্তকরণ ও তাদের তথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করার লক্ষ্য রয়েছে প্রকল্পটির। মাঠপর্যায়ে উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজে অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবগুলো ব্যবহার করা হবে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকার ভেরিয়েশন
একই বৈঠকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো নিয়ে একটি অতিরিক্ত সরবরাহের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্যাকেজ-৬-এর লট-১-এর আওতায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের বিদ্যমান মডুলার ডেটা সেন্টার, লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ল্যান), নেটওয়ার্ক অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো স্থানান্তর ও পুনঃস্থাপনের কাজ করা হবে। একই সঙ্গে এসব অবকাঠামোর কমিশনিং এবং পুরো কার্যক্রম চলাকালে সেবা সচল রাখার ব্যবস্থাও থাকবে।
এ কাজের জন্য সুপারিশ করা প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কাজটির মূল চুক্তিমূল্য ছিল ৮ কোটি ৬৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এর বিপরীতে ২ কোটি ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৮৮ টাকার ভেরিয়েশন প্রস্তাব করা হয়েছে। ভেরিয়েশনসহ সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৯২ লাখ ২০ হাজার ৫৮৮ টাকা।
তিন জেলার সংযোগ সড়কে পুনঃদরপত্র
বৈঠকে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার সংযোগকারী সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের একটি প্যাকেজের পুনঃদরপত্রের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে কুমিল্লা সড়ক জোনের অধীন ফেনী সড়ক বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউপি-০৬। এর দরপত্র প্যাকেজ নম্বর এডিপি/এনএসইজেড/ওএসটিইটিএম/এফআরডি/ডব্লিউপি-০৬/২০২৫-২০২৬ এবং দরপত্র আইডি ১২৪৫৬৬৮।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটির সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।