মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া চৌরাস্তা থেকে পুরাতন ঘাট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। চার বছর আগে ইট বিছিয়ে সাময়িক সংস্কার করা হলেও এরপর আর কোনো পাকা বা স্থায়ী মেরামতের কাজ হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাতায়াতকারী মানুষজন। মেরামত করার দ্বায়িত্ব নিচ্ছেন না কোন বিভাগ। স্থানীয় সরকার, নৌ পরিবহন এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের কেউ এর দ্বায়িত্ব না নিয়ে অনেকটা উদাসীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে এই সড়ক ব্যবহার করেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হতো। পরে ফেরী ঘাট শিমুলিয়ায় স্থানান্তরিত হলে এ সড়কটির গুরুত্ব কিছুটা কমলেও বর্তমানে কান্দিপাড়া, যশলদিয়া, কবুতরখোলা, মাদ্রা, ভাগ্যকুল, বালাসুর, কামারগাঁও ও দোহার এলাকার মানুষের আসা যাওয়ার শহরমুখী ও আশেপাশের এলাকার একমাত্র সহজ পথ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধনের আগের দিন তৎকালীন সংসদ সদস্যের অনুরোধে তড়িঘড়ি করে মাওয়া চৌরাস্তা থেকে সুপার মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কে ইট বিছিয়ে সংস্কার করা হয়। তবে এরপর চার বছর পার হয়ে গেলেও আর কোনো উন্নয়ন বা পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে। প্রায়ই এখানপ ছোট খাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক সুরুজ মিয়া বলেন, “পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগের দিন প্রধানমন্ত্রীকে দেখানোর জন্য হঠাৎ করে একদিনে ইট বিছানো হয়েছিল। কিন্তু এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। আমরা প্রায় দুই আড়াইশ’ অটোচালক এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। রাস্তার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, গর্তে পরে প্রায়ই অটো উল্টে গিয়ে যাত্রীরস আঘাত পান।”
স্থানীয় এলাকাবাসী মো. পরশ জানান, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ পুরাতন ঘাটে পদ্মার তীরে ঘুরতে আসে। এছাড়া কান্দিপাড়া গ্রামের দুটি রিসোর্টেও পর্যটকদের যাতায়াত এই পথেই। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অনেকটা কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। কিন্তু এই রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে অত্র এলাকার জনসাধারণের অনেক ভোগান্তি বাড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে শুক্রবার বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকদের গাড়ি আসলে যানজট সৃষ্টি হয়। ভাঙা সড়কের কারণে এক পাশ দিয়ে দুই দিকের যান চলাচল করায় ৫০০ মিটার রাস্তা পার হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।” বিশেষ করে বৃদ্ধ ও রোগী বহনকারী যানবাহনগুলোকে পড়তে হয় বিপাকে।
এই সড়কটির সংস্কারের বিষয়ে লৌহজং উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর অফিস থেকে জানানো হয় এলজিইডি'র সড়কের নির্দিষ্ট একটি কোড নাম্বার থাকে। তবে এই সড়কে এলজিইডির কোন কোড নাম্বার পরে নাই। যেহতু এই সড়কটি এলজিইডি'র আওতায় নেই তাই এখানে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (শ্রীনগর অফিস) এমএম হানিফ বলেন, এ রাস্তাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন নয়। এ সড়কটি বিগত দিনে বিআইডব্লিউটিএ ব্যাবহার করেছে। তবে পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন হওয়ার আগে তৎকালীন সাংসদের অনুরোধে সড়ক ও জনপদ বিভাগ মাওয়া চৌরাস্তা থেকে মাওয়া সুপার মার্কেট পর্যন্ত ইট বিছিয়ে চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছিলো। এর পর আর আমাদের পক্ষ থেকে কোন কাজ করা হয়নি। তবে উপর মহল থেকে যদি কোন নির্দেশনা আসে এবং বাজেটে যদি এর ব্যায় ধরা হয় তাহলে হয়তো সড়ক ও জনপদ বিভাগ এর মেরামতের ব্যবস্থা করতে পারে।
বিআইডব্লিউটিএ'র শিমুলিয়া বন্দর কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান জানান, এ সড়কটি পুরনো ফেরীঘাট চলমান সময় আমাদের আওতায় ছিলো। তবে ফেরীঘাট শিমুলিয়াতে স্থানান্তর হওয়ার পর ঐ সড়কটি আর আমাদের মধ্যে নেই। এটি এখন পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন রয়েছে।
পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় যতগুলো রাস্তা আছে তার সবগুলোই ঠিক আছে। কোন রাস্তায় খানাখন্দ দেখা দিলে তা সাথে সাথেই মেরামত করা হয়। এই সড়কটি যেহেতু পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নয় তাই এর বিষয়ে আমাদের আপাতত কিছু করা নেই। তবে উপর মহলের কোন নির্দেশনা আসলে তখন একটা ব্যাবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সড়কটি পাকা ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।