মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে উপজেলার নদী বিধৌত চরাঞ্চল সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খামারি ও পশুপালকদের মাঝে বকনা ও পশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। লৌহজংয়ের ২১টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে বকনা বাছুর বিতরণ ও এর সাথে ৫০ কেজি করে পশু খাদ্য বিতরন করা হয়েছে। শনিবার ১৫ আগস্ট বিকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজনে মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা নদী বিধৌত চরাঞ্চল সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এসব বাছুর বিতরণ করা হয়। বকনা বাছুর বিতরণ উপলক্ষে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, লৌহজংয়ের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এড. আব্দুস সালাম আজাদ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতুর সভাপতিত্বে ও উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কালী শংকর পাল। এ ছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম এ জলিল ও মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওমর ফারুক অবাক। আলোচনা শেষে সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য খামারিদের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এম শুভ আহমেদ ও আব্দুস সালাম মোল্লা, বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান, বিএনপি নেতা আজিজুল জলিল জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোলায়মান তপু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তানভির আহমেদ অভি প্রমুখ।
এসময় গাওঁদিয়া ইউনিয়নের খামারি হাফিজুর রহমান ও কলমা ইউনিয়নের খামারি মাকসুদা বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতা বনর্না করেন। লৌহজং উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের দরিদ্র ও ক্ষুদ্র খামারিদের এ সুবিধার আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে কলমা ইউনিয়নের পাচনখোলা চর, চন্ডিতলা চর, বিদুইল চর। গাওদিয়া-ইউনিয়নের কলিরকাল চর, পাটালির চর, গাওপাড়া চর। কনকসার-ইউনিয়নের পাইকারা চর, ঝাইটিয়া চর। তেউটিয়া-ইউনিয়নের রাউৎ চর, সংগ্রামবীর চর, ভোজগাঁও চর এলাকার খামারিগন এ সুবিধার আওতাভুক্ত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে গবাদিপশু পালন ও প্রাণিসম্পদ খাতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে গবাদিপশু পালন, উন্নত জাতের পশু উৎপাদন এবং প্রয়োজনীয় পশুখাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। এ ধরনের সরকারি সহায়তা প্রান্তিক খামারি ও পশুপালকদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এজন্য খামারিদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু পালনের পাশাপাশি নিয়মিত পশু চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আসার আহ্বান জানানো হয়। স্বাগতিক বক্তব্যে এ প্রকল্পের মূল কার্যক্রম সম্পর্কে উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ কালী শংকর পাল জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র ও ক্ষুদ্র খামারিদের মাঝে ছাগল, পাঠা, ভেড়া, বকনা, হাঁস ও মুরগি বিতরণসহ, প্রাণির খাদ্য বিতরণ, প্রাণির শেড নির্মাণ সহায়তা, প্রাণির টিকা, কৃমিনাশক ও ঔষধ বিতরণ,
উন্নত জাতের ঘাসের প্রদর্শনী, সাইলেজ প্রদর্শনী করা হবে। এর জন্য তাদেরকে দক্ষতা উন্নয়ন বাড়াতে নির্বাচিত প্রান্তিক চরাঞ্চলের সুফলভোগী এবং লাইভস্টক ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটরদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, পাঠা, বকনা এবং প্রয়োজনীয় প্রাণিখাদ্য বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। প্রনীদের স্বাস্থ্যসেবা ও শেড নির্মাণে সহায়তা প্রদান করা হবে। গবাদিপশুর টিকা, কৃমিনাশক ও জীবনরক্ষাকারী ঔষধ সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত শেড তৈরিতে সরাসরি আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, খামারি ও পশুপালকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।