পারিবারিক কলহের জেরধরে শিশু কন্যাসহ বিষপান করেছেন গৃহবধূ পিংকি বেগম (২৮)। এতে আট বছরের শিশু কন্যা সুমাইয়া আক্তার মারা গেলেও বেঁচে আছেন পিংকি। তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃত শিশু সুমাইয়া বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ঘোষেরচর গ্রামের কাঠমিস্ত্রি হালিম তালুকদারের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে হালিম তালুকদার জানিয়েছেন, শনিবার সকালে মেয়ে সুমাইয়াকে বিষ খাওয়ানোর পর তার স্ত্রী পিংকিও বিষপান করেন। এসময় ঘরে পিংকি ও সুমাইয়া ছাড়া কেউ ছিলেন না। খবর পেয়ে হালিম বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী-মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পিংকিকে ওয়াশ করানো হলে তিনি কিছুটা সুস্থ হন। কিন্তু শিশু সুমাইয়াকে ওয়াশ করাতে রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে যান হালিম। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। স্ত্রীর বিষপানের কারণ সম্পর্কে হালিম জানান, ১০ বছর আগে তিনি পিংকিকে বিয়ে করেন। সংসারের নানা বিষয় নিয়ে প্রায়ই তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হতো পিংকির। সংসারে শান্তি ফেরাতে একপর্যায়ে মাকে বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন হালিম। গত দুইদিন আগে তার মা বাড়ি ফিরলে আবারও পিংকির সঙ্গে ঝগড়া হয়। শনিবার সকালে তার মা পাশের বাড়িতে গেলে মেয়েসহ বিষপান করেন পিংকি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুলাদী থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, মা-মেয়ের বিষপানের পর শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।