প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ।
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে সৌদি রাষ্ট্রদূত ক্রাউন প্রিন্সের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন।
ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের পাঠানো চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রণপত্রে দুই দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সফরের মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করা। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। সফরের সময়সূচি উভয় পক্ষের সুবিধা অনুযায়ী কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ। এর আগে ২১ জুন তিনি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান। এরপর ২৬ জুন দ্বিতীয় বিদেশ সফরে চীন যান। মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পর এবার সৌদি আরবের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ পেলেন তিনি।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি ও ধর্মীয় বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় শ্রমবাজার, জনশক্তি রপ্তানি এবং প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হজ ব্যবস্থাপনাও বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি বড় ক্ষেত্র। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি হজ পালন করতে সৌদি আরব যান। হাজিদের আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা রয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা চলছে। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে তিনি যোগ দেবেন, নাকি দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য ভারতকে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম জানান, দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
মুখপাত্র বলেন, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের কারণে সফর নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের হস্তান্তরের আহ্বানও জানিয়েছে বাংলাদেশ।