রংপুরে ফেনসিডিল ও গাঁজা উদ্ধার মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | প্রকাশ: ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
রংপুরে ফেনসিডিল ও গাঁজা উদ্ধার মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন

রংপুরে ৭৬৩ বোতল ফেনসিডিল ও ১০ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গাঁজা রাখার অপরাধে তাদের প্রত্যেককে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুই সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রংপুরের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মশিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মানিকগঞ্জ সদর থানার নবগ্রাম এলাকার মো. নয়ন ওরফে নয়া মিয়ার ছেলে মো. রাসেল মিয়া (২৬) এবং সিংগাইর থানার রায়দক্ষিণ এলাকার মো. শহিদ মিয়ার ছেলে মো. রাব্বি (২৬)। তারা দুজনই পলাতক রয়েছেন।

মামলার  সূত্রে জানা যায়, তাজহাট থানার মামলা নম্বর-১০, তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২০ এবং জিআর নম্বর-১১৭/২০-এর সূত্র ধরে দায়রা মামলা নম্বর-৫৮১/২৫ পরিচালিত হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৪(গ) ও ১৯(খ) ক্রমিকে অভিযোগ আনা হয়। মামলায় আসামিদের কাছ থেকে ৭৬৩ বোতল ফেনসিডিল এবং ১০ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, প্রসিকিউশনপক্ষের আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি রাসেল মিয়া ও রাব্বিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ১৪(গ) ক্রমিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

একই সঙ্গে ১০ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় আইনটির ৩৬(১) ধারার ১৯(খ) ক্রমিকে তাদের প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

তবে আদালতের আদেশ অনুযায়ী, উভয় সাজা একযোগে চলবে। মামলার অপর আসামি মো. নয়ন ওরফে নয়া মিয়া (৫২), পিতা মো. আলী ব্যাপারী, মাতা সোনাবাল, মানিকগঞ্জ সদর থানার নবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

রায়ে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যেদিন গ্রেপ্তার হবেন অথবা স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সেদিন থেকে তাদের সাজা গণনা শুরু হবে। মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কোনো হাজতবাস থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার বিধান অনুযায়ী তা মূল সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ছাড়া মামলায় জব্দ করা গাঁজা ও ফেনসিডিল বিধি অনুযায়ী ধ্বংস, জব্দ করা মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিককে ফেরত এবং জব্দ করা ট্রাকটি মূল মালিকের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা আলামতসংক্রান্ত আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রংপুর মহানগর পুলিশের কোর্ট ইন্সপেক্টর ও মালখানাকে।

রায়ের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, রংপুর এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রংপুরের কাছে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মামলায় প্রসিকিউশনপক্ষে রাষ্ট্রের আইনজীবী ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আব্দুল হাদী বেলাল

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে