শেরপুরে ন্যায্য মূল্যে সার, স্বস্তিতে কৃষক

এফএনএস (শাকিল আহমেদ শাহরিয়ার; শেরপুর) :
| আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
শেরপুরে ন্যায্য মূল্যে সার, স্বস্তিতে কৃষক

রোপা আমন মৌসুমে সরকারি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সার পেয়ে স্বস্তিতে আছেন শেরপুরের কৃষকেরা। ডিলারদের ব্যবসায়ী মনোভাব ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির শঙ্কা কাটিয়ে এবার সরকারের নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন জেলার কৃষকরা। সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারায় ভালো ফলনের আশাও করছেন তারা। শেরপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল এবং শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মৌসুমে সারের জন্য দুশ্চিন্তায় থাকতে হলেও এবার প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই সার মিলছে। অতিরিক্ত মূল্য বা কালোবাজারির শিকার হতে হচ্ছে না। তাই তারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

কৃষকরা জানিয়েছেন, সার নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের এতো নজরদারি আগে দেখা যায়নি। এবার মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সরাসরি সারের মনিটরিং শুরু করায় এই সুফল পাচ্ছি। এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা মাইকিং করে কৃষকদের সচেতন করে সঠিক মূল্যের বেশি দিয়ে সার না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে কোথাও সারের দাম বেশি চাইলে সরাসরি অভিযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। ফলে সময়মতো এবং ন্যায্য মূল্যে সার পাওয়া নিশ্চিত হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকায় ভালো ফলনের পাশাপাশি লাভেরও আশা করছেন তারা।

নকলা উপজেলার বাউশা এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্রতিবছর এই সময়  ব্যাপক সমস্যা থাকে। এবার ডিলাররা কোন ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেনি কৃষি বিভাগের নজরদারীর কারণে। অনেকদিন পর সরকারি মূল্যে সার পেলাম। আমরা চাই প্রশাসনের এই নজরদারি অব্যাহত থাকুক।’

শ্রীবরদী উপজেলার সার ডিলার বেলায়েত আলী তালুকদার বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে সার সরাসরি কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে। কৃষি অফিসের নিয়মিত তদারকি চলছে। একজন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত খাতাপত্র পর্যালোচনা করেন। আমরা কোন কলঙ্ক নিয়ে ব্যবসা করতে চাই না। কৃষকদের পাশে আছি আমরা।’

শ্রীবরদী উপজেলার সার ডিলার বেলায়েত আলী তালুকদার বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে সার সরাসরি কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে। কৃষি অফিসের নিয়মিত তদারকি চলছে। একজন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত খাতাপত্র পর্যালোচনা করেন। আমরা কোন কলঙ্ক নিয়ে ব্যবসা করতে চাই না। কৃষকদের পাশে আছি আমরা।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগের মৌসুমে জেলায় ৯৩ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছিল। এবার আরও বেশি জমিতে আবাদ হচ্ছে এবং উৎপাদন বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উৎপাদনকে লক্ষ্য করে চলতি রোপা আমন মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি ও অন্যান্য সার পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করা হয়েছে। গত আগস্ট মাসে শেরপুরে ইউরিয়া ৫৪২৩ মে. টন, টিএসপি ৮০৬ মে. টন, ডিএপি ২৬৬১ মে. টন ও এমওপি ১৬৮৪ মে. টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুই এক দিনের মধ্যে চলতি মাসের আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সারের বাজারে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো ডিলার অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলে বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়া ও সারের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে শেরপুরে রোপা আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, মৌসুমজুড়ে যেন একইভাবে ন্যায্য মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত থাকে এবং বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়।’

জেলা বীজ ও সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা জেলা কমিটি প্রতিনিয়ত গুরুত্ব দিয়ে মিটিং করছি। জেলার মোট ৪টি সারের গোডাউন থেকে সার নেওয়ার সময় আলাদা আলাদা ভাবে যার যার সার বুঝিয়ে দেবো। সাথে পুলিশ থাকবে। কয়েকজনকে একত্রে সার দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘ডিলারদের সার উত্তোলনের সময় প্রত্যয়ন নিতে হবে। সেই প্রত্যয়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি কর্মকর্তার স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও সার বিতরণের সময় প্রতিটি ডিলারের জন্য আলাদা আলাদা ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ সদস্য রাখা হচ্ছে। এছাড়াও শেরপুর সদর ও শ্রীবরদী উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বেশ কয়েকজনকে সাজার আওতায় আনা হয়েছে। যে কোন পরিস্থিতিতে কৃষকের হাতে ন্যয্য মূল্যে সার তুলে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে