ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উদ্দীপনা এবং নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মহাবতার ভগবান শ্রী কৃষ্ণের ৫২৫৩ তম শুভ জন্মতিথি। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির, আশ্রম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভোর থেকেই গীতা পাঠ, ভক্তিমূলক গান, পূজার্চনা, প্রসাদ বিতরণ এবং বিশেষ প্রার্থনা সভার মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকালে আটোয়ারী কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির হতে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। এতে বিভিন্ন বয়সের শত শত ভক্ত অংশ নেন। শোভাযাত্রায় শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও নানা অলৌকিক লীলা ফুটিয়ে তোলা হয়। শোভাযাত্রা শেষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আটোয়ারী উপজেলা শাখার সভাপতি ও আটোয়ারী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনোজ রায় হিরু’র সভাপতিত্বে মন্দির প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আটোয়ারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গনেশ ঘোষ ভানুর সঞ্চালনায় জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওসি মোঃ মতিয়ার রহমান, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম দুলাল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোঃ শাহাজাহান, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ বদিউজ্জামান মানিক, উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ আক্তারুজ্জামান আতা, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মোঃ মকসেদ আলী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ আটোয়ারী উপজেলা শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক কমলেশ চন্দ্র ঘোষ, উপজেলা রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিমল চন্দ্র দাসাধিকারী, উপজেলা রথযাত্রা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা বীরমুক্তিযোদ্ধা ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন ও জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন, আটোয়ারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আনিসুর রহমান ও যুগ্ন সম্পাদক নিতিশ চন্দ্র বর্মন এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ইউসুফ আলী, প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিশিষ্ট স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসায়ী নিপেন চন্দ্র ঘোষ ও ব্যবসায়ী হীরুরঞ্জন ঘোষ প্রমূখ। আলোচনা শেষে দেশ, জাতী ও মানবকুলের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণের মধ্যদিয়ে জন্মাষ্টমী উৎসব শেষ করা হয়। উল্লেখ্য যে, জন্মাষ্টমী হলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন। অধর্ম দূর করে ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বাপর যুগের অষ্টমী তিথির কৃষ্ণ পক্ষে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় তাঁর মামা কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সনাতনিদের পবিত্র গ্রন্থ গীতায় শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন-যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত, অর্থাৎ যখনই ধর্মের পতন হয়, তখনই আমি অবতীর্ণ হই।