প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দের দিনটি তাঁদের জন্য হয়ে উঠেছিল বেদনার স্মৃতি। কারও শরীরে এখনো হামলার ক্ষত, কারও চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ, আবার কারও পরিবারে প্রিয়জনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। এমন এক কঠিন সময়ে আহত নেতাকর্মীদের দুয়ারে গিয়ে পাশে দাঁড়ালেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, চট্টগ্রাম- ৪ সীতাকুণ্ড সংসদীয় আসনের এমপি অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ। একে একে আহতদের পাশে বসে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া, চিকিৎসার কথা শোনা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি যেন তাঁদের মনে করিয়ে দিলেন, দুঃসময়ে দলের কর্মীরা একা নন, তিনি তাঁদের পাশে আছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে মনসুর মেম্বারের বাড়িতে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সমবেদনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আসলাম চৌধুরী। ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আহত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি দীর্ঘ সময় কথা বলেন। কার কীভাবে আঘাত লেগেছে, কে কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন, সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শোনেন। আহতদের পরিবারের সদস্যদেরও সাহস দেন।
কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল আমাদের জন্য উৎসব ও আনন্দের দিন। আমরা সবাই মিলে আনন্দ করব, উৎসব করব এবং দলকে সুসংগঠিত হিসেবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরব, এটাই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেই আনন্দের দিনেও আমাদের নেতাকর্মীদের রক্ত ঝরানো হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনীতির পথ কখনো প্রতিহিংসা ও হিংস্রতার পথ হতে পারে না। হামলা-পীড়ন কিংবা নির্যাতন চালিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তি ও চেতনাকে স্তব্ধ করা যাবে না। সবার আগে বাংলাদেশ এই চেতনাকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে, উসকানিতে পা না দিতে এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আহ্বান জানান তিনি।
দলীয় সূত্র জানায়, ১ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় বাঁশবাড়িয়ায় বিএনপির প্রায় ২৩ নেতাকর্মী আহত হন। কেউ চিকিৎসা নিয়েছেন, কেউ এখনো আঘাতের কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, দলের কঠিন সময়ে যারা মাঠে ছিলেন, তাঁদের বিপদের সময় তিনি ও তাঁদের পাশে থাকবেন। বাঁশবাড়িয়ায় থেমে থাকেননি তিনি। কুমিরা ইউনিয়নে গিয়ে আহত নেতাকর্মী ও নারী কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের আহত নেতাকর্মীদেরও দেখতে যান। একজন জ্যেষ্ঠ নেতার এভাবে ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নে গিয়ে আহত কর্মীদের খোঁজ নেওয়াকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দেখছেন মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে সমবেদনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা বাবুল বশর ভূঁইয়া, সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সদস্যসচিব মোঃ মোরসালিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামত উল্লাহ, সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।