চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আক্তার হোসেন মাঝি বলেছেন,সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারেক রহমান সরকার অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, দেশের সব নাগরিককে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার রাখতে হবে।বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মুসলমান, হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ-নৃ- গোষ্ঠী সব ধর্মের মানুষই মূলত মানবজাতির অংশ। সবার রক্তই লাল এবং সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সমানভাবে সৃষ্টি করেছেন।আমরা সংখ্যালঘু কিছু বুঝিনা। এদেশের নাগরিক হিসাবে সকলের ধর্ম ধর্ম স্বাধীনভাবে নিরাপদে উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করবে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্সে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি উপলক্ষে শুভ জন্মাষ্টমী মহোৎসব সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। পুরাণবাজার জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি লিটন দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আ. কাদির বেপারি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চাঁদপুর ইউনিটের সেক্রেটারি ফয়সাল আহমেদ বাহার,চাঁদপুর সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধর, পুরান বাজার পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ চান মিয়া, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য ডা. পীযূষ সাহা, নেপাল চন্দ্র সাহা।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ফরিদ আহমেদ বেপারী, মো.তাছির বেপারি, দুলাল খান, মো, আসলাম তালুকদার,পূজা ও মন্দির কমিটির প্রমোদ দাস,প্রফেসর সমীরণ ঘোষ,অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গোপাল ঘোষ,শিক্ষক কার্তিক সরকার, অনন্ত চক্রবর্তী, ডা.সহদেব দেবনাথ,দুলাল দাস,টুটন বণিকসহ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু মহাজোটের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি আরো বলেন, জন্মাষ্টমী কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করারও একটি উপলক্ষ। অতীতে দুর্গাপূজা বা অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের সময় প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা মিলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করে আসছে। শহর ও গ্রামের সব সনাতন ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য ধর্মের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সেজন্য ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
কিছু কুচক্রী মহল ও ধর্মান্ধ ব্যক্তি ভিন্ন ধর্মের ওপর আঘাত হেনে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করেন। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্ত চলছে। এই ধরনের চক্রান্ত প্রতিহত করতে দেশের সকল মানুষকে ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। তিনি অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং সনাতন ধর্মাবলীদেরকে চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক তথা বিএনপির পক্ষ থেকে জন্মাষ্টমী শুভেচ্ছা জানান আলোচনা পর্ব শেষে অতিথিসহ উৎসব সংশ্লিষ্টদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এরপর গীতা পাঠ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। সবশেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। সনাতন ধর্মীয় সংগঠনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ অসংখ্য ভক্তবৃন্দ জন্মাষ্টমীর সমাপনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।