নীলফামারীর সৈয়দপুরে মুন্সিপাড়া যুবসমাজের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এলাকার তরুণদের উদ্যোগে সদ্য প্রয়াত জনপ্রিয় বার্বুচি (রাঁধুনি) শাহীন হোসেনের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ করা হয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা ও পরিচিত বার্বুচি শাহীন হোসেন। পরে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
শাহীন হোসেন ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। রান্নার কাজে তার সুনাম ছিল ব্যাপক। অল্প সময়ের মধ্যেই তার রান্নার স্বাদ ও দক্ষতা মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে সৈয়দপুর ও নীলফামারীর পাশাপাশি দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান এবং ঢাকাতেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ভোজের রান্নার জন্য তার ডাক পড়ত।
মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগেও দিনাজপুর জেলার একটি অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার মানুষের খাবারের আয়োজনের রান্নার দায়িত্ব পালন করেন শাহীন। এরপর আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যুতে পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়।
শাহীন হোসেনের মানবিক আচরণ ও ভালো ব্যবহারের কথা স্মরণ করে তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মুন্সিপাড়ার যুবসমাজ। এলাকার ব্যবসায়ি আক্তার হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, মনোয়ার হোসেন মনু, নওশাদ হোসেন, রং ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আশরাফ হোসেন, সামশাদ হোসেন,জামাল শেখ,আরমান মুদি ব্যবসায়ি ও ডাঃ রাজুসহ স্থানীয় যুবকরা এ উদ্যোগে অংশ নেন। তারা শাহীনের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন এবং উপস্থিতদের মাঝে তবারক বিতরণ করেন।
এলাকাবাসী বলছেন, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তার জন্য সম্মিলিতভাবে দোয়ার আয়োজন করা নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। মুন্সিপাড়া যুবসমাজের এমন কর্মকাণ্ড সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হোসেন ফেকু বলেন, “শাহীন বার্বুচি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তার আচার-আচরণ ছিল অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র। তার আকস্মিক মৃত্যুর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকার যুবসমাজ নিজেদের উদ্যোগে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। এ ধরনের ভালো কাজের জন্য মুন্সিপাড়া যুবসমাজ সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সমাজের মানুষের বিপদে-আপদে যুবসমাজের এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এটাই প্রত্যাশা।