৬ টাকার আলুভাড়া নিয়ে রাজশাহীতে কোল্ড স্টোরেজে তাণ্ডব!

এফএনএস (মোঃ আব্দুল বাতেন; গোদাগাড়ী, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
৬ টাকার আলুভাড়া নিয়ে রাজশাহীতে কোল্ড স্টোরেজে তাণ্ডব!

রাজশাহী প্রতিনিধি সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ৬ টাকা ভাড়ায় আলু সংরক্ষণ ও ডেলিভারি দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর একটি কোল্ড স্টোরেজে হামলা, ভাঙচুর ও আলুর বস্তা লুটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।

মঙ্গলবার রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের প্রেস কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নগরীর সব কোল্ড স্টোরেজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ৩১ আগস্ট কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে কোল্ড স্টোরেজে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সরকারি নির্ধারিত এই ভাড়াতেই বর্তমানে আলু সংরক্ষণ ও ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার নগরের এয়ারপোর্ট থানার দৌলতপুর এলাকার রহমান সিডস স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডে ৬ টাকা কেজি দরে আলু ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৩০ থেকে ৩৫ জন বহিরাগত স্টোরেজে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, তারা স্টোরেজের ম্যানেজার আব্দুল হালিম সরকারকে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে ডেলিভারি অর্ডার কর্মকর্তা আজিজুর রহমানকে সরকারি নির্ধারিত ৬ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা কেজি দরে ডিও কাটতে চাপ দেওয়া হয়। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে গালিগালাজ করা হয়।

একপর্যায়ে হিসাবরক্ষক রায়হান রানাকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শ্রমিক সালাউদ্দিনকেও মারধর করা হয়। সহকারী ম্যানেজার আজিজুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

পরে হামলাকারীরা স্টোরেজের অফিস কক্ষে ঢুকে চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার, ক্যাশ কাউন্টারের কাচ ও ম্যানেজারের টেবিল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

শুধু ভাঙচুর নয়, স্টোরেজের ভেতর থেকে আলুর বস্তা নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে দাবি সংগঠনটির।

রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবু বাক্কার বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকার নির্ধারিত ভাড়াও দিতে চাইছে না। তারা বিভিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এতে কোল্ড স্টোরেজের মালিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

তিনি জানান, রহমান সিডস স্টোরেজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি রাজশাহীর সব কোল্ড স্টোরেজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসান আলী বলেন, রাজশাহীতে প্রায় ৪০টি কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করেন। কোল্ড স্টোরেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে শ্রমিকদের পাশাপাশি আলুচাষি ও কৃষকরাও ক্ষতির মুখে পড়বেন।

তিনি আরও বলেন, কোল্ড স্টোরেজ শিল্প রক্ষায় হামলার ঘটনায় যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি বাড়ায় কোল্ড স্টোরেজ পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। যদিও রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন প্রতি কেজি ৭ টাকা ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সরকারি নির্ধারিত ভাড়া মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংগঠনটির সভাপতি।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং কোল্ড স্টোরেজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি আবু বাক্কার, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসান আলী, সহ-সভাপতি শামসুর রহমান শান্তন, জিয়াউর আহমেদসহ বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে