চিতলমারীতে জাল দাখিলা ধরে জমি রেজিস্ট্রি আটকে দিলেন সাব-রেজিস্ট্রার

এফএনএস (মোঃ একরামুল হক মুন্সী; চিতলমারী, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
চিতলমারীতে জাল দাখিলা ধরে জমি রেজিস্ট্রি আটকে দিলেন সাব-রেজিস্ট্রার

বাগেরহাটের চিতলমারী সাব-রেজিষ্ট্রার সমীর কর্মকার ৮টি অনলাইন জাল দাখিলা সনাক্ত করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বোয়ালিয়ার মৌজার ১৫ শতক জমির দলিল রেজিষ্ট্রির জন্য দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেন নোটিশসহ প্রয়োজনীয় নথি চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দাখিল করেন। ওই দলিল লেখকের দাখিলকৃত নথির অন লাইন দাখিলা সাব-রেজিষ্ট্রার বার কোড দিয়ে পরীক্ষাকালে সার্ভারে প্রবেশে ব্যার্থ হলে তার সন্দেহ হয়। এরপর তিনি এক এক করে সবগুলো দাখিলাই পরীক্ষায় একই সমস্যা দেখতে পান। পরবর্তীতে তিনি অন্য একটি দলিলের দাখিলা পরীক্ষা করলে সরাসরি ভুমি মন্ত্রনালয়ের ভূমি সংক্রান্ত সার্ভারে প্রবেশ করায় তার সন্দেহ প্রমানিত হয়। সাব-রেজিষ্ট্রার পরবর্তীতে দেখতে পান জালকারীরা অনলাইন দাখিলার সব কিছু হুবাহু নকল করলেও মড়া এর স্থলে য়ড়া দিয়ে বার কোড তৈরি করেছেন। জাল অনলাইন দাখিলাগুলো জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার সমীর কর্মকার মুঠেফোনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

সাব-রেজিষ্ট্রার সমীর কর্মকার আরো বলেন, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তিনি চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নির্ধারিত কর্মদিবস ছিল। বেলা ১১ দিকে এ অফিসের দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেন, নিবন্ধন নং ০৮/০৮। তিনি বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমির দলিল রেজিষ্ট্রি করতে অত্র অফিসে নোটিশসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেন। দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেনের দাখিলকৃত নথির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে খতিয়ান-৮৫৫ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৩৪০, খতিয়ান-৬৫৯ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৬৮৭, খতিয়ান-৪৮৩  দাখিলা-৪৭১২২৬১৭৬৮৩৪, খতিয়ান-৪২৩ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৩২৫, খতিয়ান-৩৭৫ দাখিলা-  ৪৭১২২৬১৭৬৮৯৮, খতিয়ান-৫১ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৪০২, খতিয়ান-৩৭১ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৬৮৭, খতিয়ান-১৩১ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৬০১ ও খতিয়ান-৬৫৮ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৫৯৫ অনলাইন দাখিলা গুলো জাল বলে প্রমানিত হয়েছে। দাখিলা জাল প্রমানিত হওয়ায় ওই জমির দলিলটির রেজিষ্ট্রি স্থগিত ও ৮টি জাল দাখিলাসহ নথির সকল কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেনের কাছে দাখিলা জালের বিষয়ে লিখিত ভাবে জবাব চাওয়া হবে। তাঁর জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  চিতলমারী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার সহকারি দলিল লেখক সুব্রত রায় ওই দাখিলা গুলোসহ নথিটি আমাকে দেয়। নথিটিতে আমার নাম ব্যবহার করে দলিলটি রেজিষ্ট্রির জন্য আমি সাব-রেজিষ্ট্রারের সামনে উপাস্থাপন করি।’

দলিল লেখক সুব্রত রায় বলেন, ‘বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমির দাতা শাকিরুল বেগম ও গ্রহীতা মোঃ মাসুম কাজী জমিটি রেজিষ্ট্রি দলিল করার জন্য আমাদের কাছে আসে। মাসুম কাজী ওই দাখিলা গুলোসহ উক্ত কাগজপত্র আমাদের সরবরাহ করে।’

গ্রহীতা মোঃ মাসুম কাজী বলেন, ‘বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমি সাড়ে ৫ লাখ টাকায় ক্রয় নির্ধারন হয়। এই জমির দলিল রেজিষ্ট্রির জন্য দলিল লেখক আমার কাছ থেকে ৮১ হাজার টাকা নিয়েছে এবং ১৬ হাজার টাকার দিয়ে জসিমের কাছ থেকে ওই ৮টি দাখিলা সংগ্রহ করেছি।’ চিতলমারী সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি খাঁন মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই দাখিলা জালের ঘটনায় আমরা নিন্দা জানাই। যারা এই জাল চক্রের সাথে জড়িত আমরা তাদের শাস্তি দাবি করি।’ 

হিজলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল ওহাব বলেন ‘ বিগত প্রায় ৬ মাস ধরে বোয়ালিয়া মৌজার খাজনা আদায় ও দাখিলা দেওয়া বন্ধ রয়েছে।’ এ ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘এ ব্যাপারে কেউ আমাকে কিছু বলেননি। রেজিষ্ট্রি অফিসে যে ব্যক্তি জাল দাখিলা দাখিল করেছেন সাব-রেজিষ্ট্রার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে