আমতলীর নতুন বাজার মাছ ও সবজি বাজারের সামনের ৫০০ মিটার সড়কে ছোট বড় অসংখ্য গতের্র সৃষ্টি হওয়ায় বাজারে আসা ও জেলা শহর যাতায়ত করা হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। সড়কটি আমতলী-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের আওতাভূক্ত হওয়ায় অন্য সংস্থাগুলো সংস্কার করছে না।
বরগুনা সড়ক ও জনপথ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী নতুন বাজার-বরগুনা আঞ্চলিক মহাসড়কটি ২০২০ সালে সংস্কার করা হয়। চলতি বছর পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কটি সংস্কার করা হলেও আমতলী নতুন বাজার থেকে বরগুনার সাথে সংযুক্ত আমতলী ফেরিঘাট পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়ক সংস্কার করা হয়নি। সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারের অভাবে আমতলী নতুন বাজার চৌরাস্তার পাশে সবজি ও মাছ বাজার সামনের অংশে ৫০০ মিটার সড়ক জুরে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে কাঁদা সৃষ্টি হওয়ায় মানুষ পায়ে হেটেও চলাচল করতে পারে না।
এই সড়কটির পাশেই রয়েছে আমতলী পৌরসভার সবজি ও মাছ বাজার। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই বাজারে আসে মাছ ও সবজি ক্রয়-বিক্রয় করতে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি বিক্রির জন্য পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে এই বাজারে আসে মাছ সবজি নিয়ে। তাছাড়া এই সড়ক দিয়েই জেলা শহর প্রতিদিন যাতায়ত করে হাজারো মানুষ। প্রতিদিন চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ন একটি সড়ক সংস্কার বিহীন অবস্থায় পরে থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
বৃহস্পতিবার সকালে সড়েজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী নতুন বাজার চৌরাস্ত মোর থেকে মাছবাজার পর্যন্ত ৫০০ মিটার সড়কের পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের গভীরতা বড় হওয়ায় নীচের খোয়া উঠে কাদা মাটি উপরে চলে আসায় সড়ক জুরে কাঁদা পানিতে একাকার হয়ে গেছে পুরো সড়ক। বাজার করতে আসা অনেকেই হোচট খেয়ে সড়কে পরে কাঁদা পানিতে একাকার হয়ে বাসায় ফেরেন। এই সড়ক দিয়ে ব্যাটারি চালিত অটো রিকসা চলতে গিয়ে অনেক সময় গর্তে আটকা পরায় ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের সৃষ্টি হয়।
মাছ ও সবজি বাজারে আসা ক্রেতা হাসানুল বাননা বলেন, সড়ক বেহাল থাকায় বাজারে যাওয়ার সময় সড়কের কাঁদা পানিতে কাপর চোপর সব নষ্ট হয়ে যায়। তাই বাসায় ফিরে গোসল করতে হয়। পাইকারী মাছ বিক্রেতা মো. বারেক প্যাদা বলেন, সড়ক ভাঙ্গা থাকায় কোন পাইকার গাড়ি নিয়ে এই বাজারে আসতে চায় না। মাছ বজারের পাশেই মুদি মনোহরি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, রাস্তা খারাপ থাহায় এই বাজারে কেউ আসতে চায় না। লোক না আসায় বিক্রি কমে গেছে অনেক।
বরগুনা সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে গর্ত মেরামত করা হবে। তিনি আরো বলেন, সড়কের পাশে মাছ এবং সবজি বাজার থাকায় অতিরিক্ত লোড এবং সব সময় পানির কারনে পিচ উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য আগামী অর্থ বছরে আরসিসি ঢালাই দিয়ে সড়কটি সংস্কার করা হবে এ অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।