এআইয়ের ব্যবহার পরিমিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে সৃজনশীলতা কমে না যায়: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
এআইয়ের ব্যবহার পরিমিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে সৃজনশীলতা কমে না যায়: রাষ্ট্রপতি
ছবি: সংগ্রহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার যেন নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছ না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভা কমিয়ে দিতে পারে। তাই জনকল্যাণে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এআইয়ের ব্যবহার পরিমিত রাখা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি জনকল্যাণে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানো প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা এবং নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এআই মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এর ব্যবহার যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। প্রযুক্তির সুফল মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশও ধরে রাখতে হবে।

সৌজন্য সাক্ষাতে কুয়েটের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন।

জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন বা রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার কথাও বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরি করে এসব কার্যক্রমকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি ন্যানো ও জৈবপ্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন বাড়লে প্রযুক্তির ব্যবহার জনকল্যাণে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। রাষ্ট্রপতি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং কুয়েটের অধ্যাপকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে