রাড্ডা সেন্টারে হামলা: মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
রাড্ডা সেন্টারে হামলা: মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মিষ্টির নাম আলোচনায় আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এর আগে দলের উচ্চপর্যায়ে তাঁকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। 

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, দুই শতাধিক ব্যক্তি সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয়। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কেন্দ্রের একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। 

ঘটনার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নামও আলোচনায় আসে। তাঁদের কয়েকজনকে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। 

রাড্ডা সেন্টারটি ১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য মা ও শিশুস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদানসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। হামলার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। 

ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তদন্ত শুরু হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় মিষ্টির বিষয়টি তদন্তাধীন। তিনি বলেন, কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওই ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। 

রাড্ডা সেন্টারে হামলার পর মিষ্টির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন বলে দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে পৃথকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে দলীয় পর্যায়ে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি ৩০ সেপ্টেম্বরের আগেই প্রকাশ্যে আসে। তখন দলীয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে তাঁর পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা জানা যায়। তবে সে সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত নির্দেশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। 

এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার তথ্য সামনে এলো। এখন তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া কখন সম্পন্ন হবে, সেটিই পরবর্তী বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে