চাঁদপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তা পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এক প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর, ২০২৬) বেলা ১২টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। এতে চাঁদপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পূজা মন্ডপস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করুন,উচ্চস্বরে ইকো সেট বাজানো পরিহার, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও স্বেচ্ছাসেবক (ভলান্টিয়ার) নিয়োজিত রাখাসহ উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ বছর চাঁদপুর জেলায় গতবারের চেয়ে ৮টি বেড়ে মোট ২৩২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশাসনের আশ্বাস ও সতর্কবার্তা: সভায় চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। এছাড়া যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনো সমস্যা হলে আমাদের ফোন নম্বর আপনাদের কাছে আছে, না থাকলে নিয়ে নেবেন। সরাসরি যোগাযোগ করবেন। আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।”
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান প্রতিমার অবয়ব, মণ্ডপের পরিবেশ ও বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “প্রতিমার আদলের বিষয়ে মনে রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন বিতর্কিত কিছু না থাকে। প্রতিমার মাধ্যমে যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উসকানিমূলক বার্তা না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে”। মণ্ডপের সাউন্ড সিস্টেম ও সংস্কৃতির বিষয়ে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “দুর্গাপূজার সাথে বাংলা গানের এক বিশাল ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা যদি বাংলা গান বাদ দিয়ে বিদেশি বা অপসংস্কৃতির দিকে চলে যাই, তবে তা দুঃখজনক। মণ্ডপগুলোতে ভক্তিমূলক ও মার্জিত বাংলা গান বাজানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।” পাশাপাশি তিনি মণ্ডপে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সুনির্দিষ্ট রাখা এবং যানজট এড়াতে সড়ক ব্যবস্থাপনার ওপর আলোকপাত করেন। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও চাঁদপুর পৌর প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল ছিদ্দিক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা,চাঁদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ,বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন। উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি পরেশ মালাকার, যুগ্ম সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা, চাঁদপুর সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধর, হাজিগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহিদাস বনিক, সাধারণ সম্পাদক সমর লাল দত্ত, শাহারাস্তি পূজা পরিষদের সভাপতি নিখিল চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অমৃত মজুমদার টুটন,কচুয়া উপজেলা পূজা পরিষদের সভাপতি ফনি ভূষণ,সাধারণ সম্পাদক বিকাশ, মতলব দক্ষিণ পূজা পরিষদের সভাপতি কিশোর কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক চন্দন সাহা,মতলব উত্তর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী, চাঁদপুর পৌর পূজা পরিষদের সভাপতি নেপাল সাহা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুমন সরকার জয়, হাইমচর উপজেলা পূজা পরিষদের সভাপতি বিবেক লাল মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অজয় মজুমদার, চাঁদপুর জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক সরকার,সদর উপজেলা পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানিক লাল ঘোষ। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং জেলার বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেন। সভা শেষে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সকলেই আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে বদ্ধপরিকর। চাঁদপুর জেলাতেও সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে। চাঁদপুর জেলায় এবার ৮ টি বেড়ে ২৩২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।গত বছর পূজা মণ্ডপ ছিল ২২৪ টি।এরমধ্যে চাঁদপুর পৌর এলাকায় পূজা হবে ৩৫ টি মন্ডপে।এ পৌরসভার বাহিরে ৬টি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজা হবে।