কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের চন্দ্রখানা সাউদপাড়া এলাকার শত বছরের একটি পুরনো রাস্তা কেটে পুকুরের অংশ বানানো ও চ্যাকার দিয়ে ঘিরে বসতবাড়ির অংশ করে দখলে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় আব্দুর রহমান সাউদ রাস্তাটির কিছু অংশ পুকুরে কেটে নেয়ায় ও রমজান আলী খাঁ রাস্তাটির কিছু অংশ চ্যাকার দিয়ে ঘিরে দখলে নেয়ায় রাস্তাটি সংকোচিত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী এলাকাবাসী রাস্তাটি দখলমুক্ত করার জোড় দাবি করেছেন।
জানা গেছে, পুরনোএই রাস্তা দিয়ে আগে গরু মহিষের গাড়ি চলাচল করলেও এখন রাস্তাটি দখলে চলে যাওয়ায় সংকেচিত হয়ে একটি অটো রিকশা, ভ্যান কিংবা মৃত মানুষের খাটলী নিয়ে যাওয়া দুষ্কর হয়েছে। ফলে এই রাস্তায় চলাচলকারী শতশত মানুষ পড়েছেন বিপাকে। এলাকাবাসী রাস্তাটি দখলমুক্ত ও রাস্তাটি সংস্কার দাবি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি আবেদন করেছেন। এই আবেদনের আলোকে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এর সঠিক সমাধানের কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ আলী জানান, আমাদের গ্রামের শতবছরের এই রাস্তা দিয়ে বাপ-দাদারা চলাচল করেছিল। এই রাস্তা দিয়ে গরু-মহিষের গাড়ি যাতাতায়ত করতো। এখন রাস্তাটি দখলে নেয়ার কারনে আমাদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
তিনি আরও জানান, সংকোচিত সড়কটি দিয়ে মৃত মানুষের দাফনের জন্য খাটলি নিয়ে যাওয়া যাচ্ছেনা। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সময়ে রাস্তাটি দখলমুক্ত ও সংস্কার করার দাবি করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান কাজল জানান, সেই বাপ-দাদা আমলের পুরনো এই রাস্তাটি দখলে সংকোচিত হওয়ায় আমাদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। রাস্তাটিকে দখলমুক্ত করে সংস্কার কাজ শুরু করা হলে প্রয়োজনে আমি রাস্তাটি প্রশস্ত কাজের জন্য দুই শতাংশ জমি দান করবো।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে রমজান আলী খাঁ জানান, রাস্তাটি আমার মালিকানা জমির মধ্যে থাকায় আমি চ্যাকার দিয়েছি। আমাকে নির্যাতন করায় আমি এমনটি করেছি। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী ইউএনও দিলারা আকতার জানান, এলাকাবাসীর আবেদনের ভিত্তিতে ইউনিয়ন তহশীলদারকে মালিকানা যাচাইয়ে বলা হয়েছে। তার কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।