দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ জন। নতুন মৃত্যুর সাতটি ঘটনাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ঘটেছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ জনে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৬৫৬ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৩৪০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৬০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৩২০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২১১ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭১ জন রয়েছেন।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২২৫ জন, চট্টগ্রামে ১৯৭ জন, খুলনায় ১৫৫ জন, রাজশাহীতে ১১১ জন, ময়মনসিংহে ৪৫ জন, রংপুরে ২৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অক্টোবরে মৃত্যু ১১৯ জনের
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ২০ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে এ বছর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে সেপ্টেম্বরে।
এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। সব মিলিয়ে চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর এ রোগে মারা যান ৪১৩ জন।
২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। সে বছর মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।
এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।
চলতি বছরের ২১ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ইতিমধ্যে ২০২৫ ও ২০২৪ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে চলতি বছরের মোট মৃত্যু এখনো ওই দুই বছরের চেয়ে কম।