২৩৭ বছরের পুরোনো কারাগার হবে খালেদা জিয়ার নামে দৃষ্টিনন্দন পার্ক

এফএনএস (এইচ এম শহীদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
২৩৭ বছরের পুরোনো কারাগার হবে খালেদা জিয়ার নামে দৃষ্টিনন্দন পার্ক

একসময় যে প্রাচীরঘেরা প্রাঙ্গণে বন্দিজীবনের দিন গুনতেন কয়েদিরা, যে পুরোনো টিনশেড ঘরগুলো ছিল তাঁদের আবাস, সময়ের পরিক্রমায় সেই স্থানই হয়তো হয়ে উঠবে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার এক টুকরো সবুজ আশ্রয়। ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরে গড়ে উঠবে আত্যাধুনিক  দৃষ্টিনন্দন পার্ক। ছায়াঘেরা সবুজের মাঝে পুরোনো নকশার টিনশেড ঘরগুলো দাঁড়িয়ে থাকবে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে। যে প্রাঙ্গণ একসময় ছিল বন্দিত্বের প্রতীক, সেখানেই তৈরি হবে অবসর, প্রশান্তি আর নির্মল আনন্দের নতুন ঠিকানা। অতীতের স্মৃতিকে ধারণ করে এমন রূপান্তর শুধু একটি কারাগারের জায়গায় পার্ক নির্মাণ নয়, বরং নগরজীবনে সবুজের পরিসর বাড়ানো এবং ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরির এক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সিলেট নগরীর ২৩৭ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় এমনই একটি অত্যাধুনিক দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। যে পার্কের নাম বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। বাস্তবায়িত হলে নগরের ব্যস্ততার মধ্যে এই স্থাপনাটি হয়ে উঠতে পারে সবুজ, ইতিহাস ও নাগরিক প্রশান্তির এক অনন্য মিলনস্থল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জমি হস্তান্তরের উদ্যোগ সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারটি দীর্ঘদিন ধরে নগরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান হিসেবে পরিচিত। কারাগারের বন্দিদের নতুন স্থাপনায় স্থানান্তরের পর থেকেই বিস্তীর্ণ এ জায়গাকে জনসাধারণের বিনোদন, অবসর যাপন ও নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে ব্যবহারের দাবি উঠে আসছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, পুরোনো কারাগারের জমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জমিটি হস্তান্তর করা হলে সেখানে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পার্কটির নাম বেগম খালেদা জিয়ার নামে রাখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় পুরোনো কারাগারের জমি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে সেখানে একটি নান্দনিক পার্ক নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে জমি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা, প্রকল্পের ব্যয়, নকশা প্রণয়ন এবং নির্মাণকাজ শুরুর সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ২৩৭ বছরের ঐতিহাসিক স্থাপনা ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারটি ১৭৮৯ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন আসামের কালেক্টর জন উইলিস ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় প্রায় ২৪ দশমিক ৭৬ একর জমির ওপর কারাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত এ কারাগার ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত হয়। সে সময় কারাগারটির সরকারি বন্দি ধারণক্ষমতা ছিল ১ হাজার ২১০ জন। তবে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি রাখার কারণে দীর্ঘদিন সেখানে চাপ ও অবকাঠামোগত সংকট বিরাজ করছিল। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট নগরীর উপকণ্ঠ বাদাঘাটে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর নতুন কারাগারটি উদ্বোধনের পর পুরোনো কারাগারের বন্দিদের সেখানে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে নগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিস্তীর্ণ এ জমির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে আলোচনা চলে আসছে।সবুজ পরিসর ও ইতিহাস সংরক্ষণের নতুন সম্ভাবনা পুরোনো কারাগারের জায়গায় পার্ক নির্মাণ করা হলে সিলেট নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত সবুজ পরিসর বাড়বে। নগরের ব্যস্ত জীবনে হাঁটাচলা, অবসর যাপন ও পারিবারিক বিনোদনের জন্য নতুন একটি স্থান তৈরি হবে। ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এ বিশাল জায়গাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে সিলেটের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ এবং বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।তবে পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন নির্ভর করছে জমি হস্তান্তর, প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থায়ন, নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো বাস্তবে রূপ নিলে ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি নতুন পরিচয়ে নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে