রেশম শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরিয়ে আনাসহ এ শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে রাজশাহীতে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে গতকাল বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় রেশম শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিত প্রস্তাবনা ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার বলেন, ‘রেশম শিল্পের হারানো গৌরব কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন, এ শিল্পের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একইসাথে রেশম শিল্পের বিকাশে স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। এ শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিত প্রস্তাবনা ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার রেশম শিল্পকে গুরুত্ব দিয়েছে। এ শিল্পের উন্নয়নে উদ্যোক্তাসহ সবাইকে সম্পৃক্ত হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ সিল্ক ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, রেশম শিল্পের উন্নয়নে উন্নত জাতের রেশম পোকার ডিম ও উচ্চমানের সুতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘চীন ও ভারতের তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। গুটি ও সুতার মান আরও উন্নত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রেশম শিল্পের বিকাশে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের অধীন নার্সারিগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।’
এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে লিয়াকত আলী বলেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নার্সারিগুলোকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের রেশমের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।
সভায় তিনি মাছ চাষের মতো রেশম চাষেও সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
সপুরা সিল্ক মিলস লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলী বলেন, রেশম শিল্পের উন্নয়নে শুধু সুতা ও গুটির উন্নয়ন করলেই হবে না, কাপড়ের মানও উন্নত করতে হবে। এ শিল্পের বিকাশে ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
সভায় রেশম শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিত প্রস্তাবনা ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও শাহানা আখতার জাহান, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক নাসিমা খাতুন, মু. রেজা হাসান, মো. মিজানুর রহমান ও আনোয়ারুল হাসান, সিল্ক ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, রেশম ব্যবসায়ী, রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।