পিরোজপুরে পুলিশ অফিসার্স মেসের কেয়াটেকারকে ডিবি পুলিশের অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাতে ও দোষীদের বিচারের দাবীতে এক মানববন্ধন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর সদর থানার সামনের সড়কে নির্যাতিত পুলিশ মেস কেয়ারটেকার ইউনুস ফকিরের স্বজন ও এলাকাবাসী এ মানববন্ধন রচনা করে নির্যাতনকারী অভিযুক্ত জেলা ডিবি পুলিশের ওসি আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবী জানায়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নির্যাতিত ইউনুস ফকিরের ভাই আনিসুর ফকির, ভগ্নিপতি আব্দুল লতিফ সেখ, ভাতিজি লাকি আক্তার, ইমাম সেখসহ এলাকাবাসী। এসময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পিরোজপুর জেলা পুলিশের অফিসার্স মেসে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত খানাখুনিয়ারী গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস ফকিরকে গত ১৩ এপ্রিল টাকা চুরির মিথ্যা অভিযোগে পিরোজপুর জেলা ডিবি পুলিশের ওসি আরিফুল ইসলাম ও ডিবি পুলিশের সদস্যা নির্দয়ভাবে পেটায় এবং একপর্যায়ে তাকে বৈদ্যুতিক সখ দেয়াসহ আগুনে মোম গলিয়ে গরম মোম ঢেলে ইউনুস ফকিরের পুরুসাঙ্গ ঝলসে দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন এরকম একটি পৈশাচিক ঘটনা ঘটলেও তা চেপে রেখে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে ওই সব নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যরা। মানববন্ধনকারীরা ইউনুসের উপর এধরনের বর্বরোচিত নির্যাতনের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দেশে বিদ্যমান আইনে বিচারের দাবী জানান। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, নির্মম ও অমানবিক এ ঘটনার ৭ দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়নি। নির্যাতিত ইউনুস ফকিরের পরিবারের পক্ষে থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলাও নিচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ সময় মানববন্ধনকারীরা থানায় মামলা গ্রহন এবং নির্যাতনের শিকার ইউনুসের সুচিকিৎসা ও দোষীদের বিচার দাবী করেছেন। এদিকে, পুলিশ মামলা নিতে অপারগতা জানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পিরোজপুর সদর থানার ওসি মাহামুদ হোসেন বলেন, ঘটনাটি পুলিশকে জড়িয়ে, তাই ভুক্তভোগী পরিবারকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেননা বিষয়টি নিয়ে আমরা কিছুটা বিব্রতবোধ করছি। তাই আদালতে মামলা করলে এবং বিষয়টি পিবিআই এর মাধ্যমে তদন্ত করলে সকলের জন্য ভাল হবে।
উল্লেখ্য, পিরোজপুর শহরতলীর ঝাটকাঠি এলাকায় অবিস্থিত পুলিশ অফিসার্স মেসের কেয়ারটেকার মো. ইউনুস ফকির (৪০) গত ১৩ এপ্রিল ডিবি পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। ডিবি পুলিশের ওসি আরিফুল ইসলামের কক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে এ অভিযোগে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। তবে পরবর্তীতে পুলিশ মেসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী শাকিল খানের কাছ থেকে চুরি যাওয়া সমুদয় টাকা উদ্ধার হয়।
নির্যাতিত ইউনুস জানায়, ২০১৮ সাল থেকে পুলিশ অফিসার্স মেসের ৪ তলা ভবনের কেয়ারটেকারের হিসেবে কাজ করে আসছেন। জেলা ডিবি পুলিশের ওসি আরিফুল ইসলামের কক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে এ অভিযোগে গত ১৩ এপ্রিল তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।
তিনি জানান, টাকা চুরির কথা অস্বীকার করায় তাকে (ইউনুস) ওসি আরিফুল হাতকড়া পরিয়ে ভবনের নিচতলায় নিয়ে যায় এবং এলোপাতারিভাবে মারধর করে। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ আরও ৭/৮ জন সদস্য সেখানে গিয়ে তাকে (ইউনুস) নির্মমভাবে পেটাতে থাকে এবং বৈদ্যুতিক শক দেয়। এছাড়া তার দুই পায়ের পাতার নিচে উপর্যুপরি বেদম পিটিয়ে পায়ে রক্তাক্ত ও ফুলা জখম করে। এসময় সে চিৎকার করলে তার মুখে লাঠি ঠেষে দেয় ডিবি পুলিশের সদস্যরা। একপর্যায়ের ডিবি পুলিশ সদস্য কাওসারের নেতৃত্বে ৩/৪ জন জোর করে তাকে রান্না ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তার (ইউনুস) পুরুষাঙ্গে আগুনে মোমবাতি গলিয়ে তপ্ত মোম ফেলে পাশবিক নির্যাতন চালায়। এতে তার পুরুসাঙ্গ ঝলসে গেছে। ওই দিন সন্ধ্যার পরে ডিবি পুলিশের লোকজন টাকার আদায়ের জন্য তাকে (ইউনুস) তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা নির্যাতনের ভয়ে স্থানীয়ভাবে সুদে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এনে ডিবি পুশিলের ওসিকে দেয়। এ ঘটনার পরে ইউনুসকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার কাছে নিয়ে যায় ডিবি ওসি আরিফুল ইসলাম। তখন পুলিশ সুপার ইউনুসের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার পর ওই মেসে কাজ করা পরিচ্ছন্নতা কর্মী (ঝাড়ুদার) শাকিল খানকে ডেকে পাঠান। এসময় জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল টাকা চুরির কথা স্বীকার করে এবং পুলিশ সেই টাকা উদ্ধার করে। পরে ইউনুসের দেওয়া টাকা আরিফুল ফেরত দেন।