বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান সংরক্ষিত নারী আসনে তৃতীয়বারের মতো দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এর আগে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বরিশাল থেকে তিনি জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। এবারও তাঁকে বরিশাল অঞ্চল থেকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া তাঁর হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সর্বশেষ আয়কর বিবরণী অনুযায়ী সেলিমা রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩৭ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর নামে ১০ হাজার ৬১২ বর্গফুটের একটি বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৬২ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫ টাকা। তবে বাড়িটির অবস্থান বা প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। পেশা হিসেবে রাজনীতি উল্লেখ করা এই জ্যেষ্ঠ নেত্রীর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৭ টাকা। তিনি যে ব্যক্তিগত গাড়িটি ব্যবহার করেন, তার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যদিও গাড়ির ধরন হলফনামায় উল্লেখ নেই। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এছাড়া তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে ২৮ লাখ ১১ হাজার ২৩৯ টাকার। হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর কাছে ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, যার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ঋণের তালিকায় রয়েছে ফ্ল্যাট বিক্রির অগ্রিম বাবদ ২ কোটি ২০ লাখ টাকা, মেয়ের কাছ থেকে নেওয়া ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং বাড়িভাড়া বাবদ ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এদিকে, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর নির্বাহী আদেশে মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।